শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

৩ ঘন্টা অবরুদ্ধের পর ৬ নেতাসহ শান্তা ফারজানা পুলিশ হেফাজতে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৭ এম
৩ ঘন্টা অবরুদ্ধের পর ৬ নেতাসহ শান্তা ফারজানা পুলিশ হেফাজতে

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংঘর্ষের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন নতুন ধারা বাংলাদেশের (এনডিবি) ছয় নেতা। মঙ্গলবার রাতে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর শাহবাগ থানা পুলিশ তাদের কড়া পাহারায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় তাদের ওপর আবারও হামলা চালান রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ) এবং মঞ্চ-২৪-এর নেতা-কর্মীরা।

পুলিশের হেফাজতে নেওয়া নতুন ধারা বাংলাদেশের নেতারা হলেন—দলের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল ও হরিদাস সরকার। রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাদের জরুরি বিভাগ থেকে বের করে গাড়িতে তোলার সময় নেতা-কর্মীদের ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

রমনা জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাব্বানী এবং শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন ছয়জনকে আহত অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষ হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের আহতরা ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এলে সেখানে আবারও সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় সংঘর্ষের কারণে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হয়। প্রথমে দেড় ঘণ্টা সেবা বন্ধ থাকার পর তা চালু হলেও ফের হামলার কারণে আবারও বন্ধ হয়ে যায়।

Model Hospital

এ সময় চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয় এবং ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আহত শান্তা ফারজানা অভিযোগ করে বলেন, ‘সন্ধ্যায় আমরা প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে মশাল ও প্রতিবাদ মিছিল করছিলাম। হঠাৎ আয়াশের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা হয়। এতে আমাদের চেয়ারম্যানসহ ছয়জন রক্তাক্ত হই। ঢামেকে চিকিৎসা নিতে এলে তারা ২০-২৫ জন মিলে আবারও হামলা চালায়। তারা আমার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেছে এবং আমরা জরুরি বিভাগে আটকা পড়ে চিকিৎসা নিতে পারছিলাম না।’

অন্যদিকে, আহত রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াশ অভিযোগ করেন, ‘শান্তা ফারজানা ও তার সহযোগীরা জুলাই শহীদ আবু সাঈদকে ‘জঙ্গি’ বলেছেন এবং ধর্ম অবমাননা করেছেন। এর প্রতিবাদ করলে শান্তা ও মোমিন মেহেদীসহ ৩০-৪০ জন আমাদের ওপর হামলা চালায়। ঢামেকে আসার পরও তারা হামলার চেষ্টা করেছে।’

মঞ্চ-২৪-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে কটূক্তি এবং ধর্ম অবমাননাকারীদের নতুন বাংলাদেশে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা প্রশাসনকে সহায়তা করতে এখানে অবস্থান নিয়েছি।’

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।