শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ভালোবাসার চরম আত্মত্যাগ, তবুও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না আকলিমা!

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
ভালোবাসার চরম আত্মত্যাগ, তবুও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না আকলিমা!
ভালোবাসার অনন্য এক বিরল ও করুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের গৃহবধূ আকলিমা বেগম (২৬)। স্বামীকে বাঁচাতে নিজের শরীর থেকে একটি কিডনি দিয়েছিলেন নিঃসংকোচে। সফল অস্ত্রোপচার শেষে বাঁচার নতুন আশাও জেগেছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে শেষ পর্যন্ত স্বামীকে আর রক্ষা করা সম্ভব হলো না।
সব ত্যাগ আর চেষ্টার পরও প্রিয়তম স্বামী দেলোয়ার হোসেনকে (৪২) হারিয়ে এখন শোকে বাকরুদ্ধ দুই কন্যাসন্তানের এই জননী। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ রূপসা গ্রামের পাঠান বাড়িতে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রবাসফেরত দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা দ্রুত কিডনি সংযোজনের তাগিদ দেন। স্বামীর এই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে নিজের একটি কিডনি স্বামীকে দিতে রাজি হন দুই সন্তানের জননী আকলিমা বেগম(২৬)।
পরবর্তীতে গত ১৪ আগস্ট ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত সিকেডি হাসপাতালে চিকিৎসকদের সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আকলিমার কিডনি দেলোয়ারের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর প্রথম দুই দিন শারীরিক উন্নতির লক্ষণ দেখা গেলেও তৃতীয় দিন থেকে দেলোয়ারের শরীরে বহুমুখী ডায়াবেটিস ও রক্তচাপজনিত তীব্র জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অবশেষে ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দেলোয়ার।
এই দম্পতির ঘরে রয়েছে আফরিন জান্নাত ইরা (১১) ও আশুরা জাহান ইভা (৪) নামের দুই অবুঝ কন্যাসন্তান। বাবার অকালমৃত্যু আর অসুস্থ মায়ের আহাজারিতে পুরো পরিবারে এখন মাতম চলছে।
নিহতের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ছোট ভাইয়ের বউ আকলিমা নিজের অঙ্গ বিসর্জন দিয়ে ভালোবাসার চরম দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর প্রথমে আমরা তাঁকে জানাতে চাইনি। কিন্তু শোকার্ত আকলিমা তা জানার পর থেকে এখন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছে। তাঁর নিজের শরীরও এখন বেশ সংকটজনক।
আক্ষেপ আর কান্না জড়িত কণ্ঠে দেলোয়ারের বৃদ্ধা মা শামছুন্নাহার বলেন, নিজের কিডনি দিয়েও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারল না আকলিমা! এখন আমার এই নিরাশ্রয় পুত্রবধূ নিজেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। দুটি অবুঝ এতিম শিশু আর অসুস্থ বৌটির চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহির হোসেন বলেন, আকলিমার এই আত্মত্যাগ চিরকাল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা যেমন তাঁর ভালোবাসার সাক্ষী হলাম, তেমনি এই করুণ বিয়োগান্তে পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital