শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোর হলেই চাঁদপুর সদরের ৯ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ নভেম্বর, ২০২১, ৩:১৭ পিএম
ভোর হলেই চাঁদপুর সদরের ৯ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : আজ ১১ নভেম্বর চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদের সাথে চাঁদপুরেও সকাল থেকে একযোগে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলেও ভোট গ্রহণের আগেরদিন হাইকোর্টে একটি রিটের প্রেক্ষিতে ১৩নং হানারচর ইউপির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এই ৯টি ইউনিয়নে সর্বমোট ৪০৮ জন প্রার্থী ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩২জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৭০ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৬৮ জন। তবে এর মধ্যে ৭নং তরপুরচন্ডী ও ৫নং রামপুর ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইতিমধ্যেই বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

চাঁদপুর সদরের ৯টি ইউনিয়নের মোট ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১লাখ ১হাজার ২৭০ জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ৯২হাজার ৬শ’ ৮৮ জন।

নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন এবং জেলা নির্বাচন অফিস সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ৯টি ইউনিয়নের নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি ৩ প্লাটুন র‌্যাব, ৩ প্লাটুন বিজেবি, ২ প্লাটুন কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন পোশাকধারী পুলিশ, ১৭জন আনসার সদস্য স্থায়ী টহলে থাকবে। ১০টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র ১০৫টি, মোট ভোট কক্ষ ৫৭১টি এবং অস্থায়ী ভোট কক্ষ রয়েছে ১১৮টি।

Model Hospital

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তোফায়েল হোসেন জানান, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ব্যালট পেপার, ব্যালটবক্সসহ নির্বাচনী সকল প্রকার সরঞ্জামাদি পৌঁছে গেছে।

নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১০৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৫৭১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১১৪২ জন পুলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসকল অফিসারদের নির্বাচন পরিচালনায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

এদিকে গত ২ নভেম্বর চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং সংরক্ষিত আসনের নারী মেম্বার প্রার্থীদের নিয়ে আচরণবিধি শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, একটি অবাদ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্যে আমাদের সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচর যেন সুষ্ঠ হয় তার জন্যে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি।

সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমাদের উপর কোন চাপ নেই। বরং সুষ্ঠু ভাবে করতে বলা হয়েছে। এই নির্বাচনে পর্যাপ্ত আনসার, বেজেবি, র্যাব, পুলিশ নিয়োগ করবো। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে আমার কাজ হলো নির্বাচন স্বচ্চতা করা। আমি কারো নাম, দল দেখবো না। মার্কাও দেখবো না। আচড়ণবিধি লঙ্ঘন হলে যতটা কঠোর হওয়ার, আমরা ততটা কঠোর হবো। অপরদিকে এ নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।

গত ২৭অক্টোবর প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা। ভোটের মাঠে জয়ী হতে ভোটারদেন নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। হাটে-ঘাটে, চা স্টলে চলছে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরাও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন।

তবে সাধারণ ভোটাররা জানান, ‘বিগত দিনে যারা এলাকায় উন্নয়ন করেছে এবং সুখে-দুঃখে যারা তাদের পাশে ছিল, তাদের তারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। সব মিলিয়ে ১০টি ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারণায় অনেকটাই জমে উঠেছে।

এদিকে দেশের আরেকটি বড় রাজনীতিক দল বিএনপি এবছরও ইউপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় তাদের শীবিরে নির্বাচন নিয়ে খুব একটা উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়নি। যদিও চাঁদপুর সদরের ৯টি ইউনিয়নের বেশ ক’টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দলটির পদ পদবী ধারী অনেকেই অংশ নিয়েছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’