শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ মার্চ, ২০২২, ১০:০৫ এম
শাহরাস্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন
মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর ১০২তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা কমপ্লেক্স আলোকসজ্জা, প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ,মু‌ক্তির উৎসব ও সুবর্ণজয়ন্তী উন্নয়ন মেলার শুভ উ‌দ্বোধন,  র‌্যা‌লি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন ,মস‌জিদ, ম‌ন্দির ও বি‌ভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহে বসবাসকারী পরিবারদের  মা‌ঝে মি‌ষ্টান্ন বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং  পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে(১৭- মার্চ) শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এটি অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, “বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অঙ্গীকার, সকল শিশুর সমান অধিকার, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তারের সভাপ্রদানে এতে ভার্চুয়াল প্রোগ্রামে ভিডিও টেলিকনফারেন্সে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে) প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত, নৌ -পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম ।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছে বলে আজ স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র অর্জন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। পরবর্তীতে স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, ৭ই  মার্চের ভাষণের  মহত্ব ও তাৎপর্য  বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে শক্তি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন সেটি আজও আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। ওই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত যুক্ত করে যে উন্নয়ন মহা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নিশ্চিত বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে শীঘ্রই পরিগণিত হবে।
আজ জাতীয় শিশু দিবসের নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবন এবং আদর্শ সম্পর্কে জানান দেওয়ার  প্রয়াস অনস্বীকার্য। তাহলে এ আয়োজন সার্থক ও সফল হবে। পরিশেষে তিনি উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযুদ্ধা, বিশিষ্ট জন, গণমাধ্যম কর্মীদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাছরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমজাদ হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার কাজল, শাহরাস্তি মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুল মান্নান, উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মজুমদার, শাহরাস্তি প্রেসকাবের সভাপতি কাজী হুমায়ুন কবির, মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার খোরশেদ আলম, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোবারক হোসেন, উপজেলা লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এম আনোয়ার, প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া দশটি ইউপির চেয়ারম্যান, পৌরসভার কাউন্সিলর, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নানান শ্রেণী-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, দিবসটি উপলক্ষে কমপ্লেক্স চত্বরে শাহরাস্তি  প্রশাসনের আয়োজনে সরকারের উন্নয়ন চিত্র ভবিষ্যৎ ভাবনা উপস্থাপনের জন্য ৩০ টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে । আগামী সাত দিন এটি (মেলা) সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। ওই স্টলগুলোতে যেকোনো নাগরিক সেবা গ্রহণ, অজানা তথ্য, সরকারের উন্নয়ন চিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানা ও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। পরিশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিরীন আক্তার সভা প্রদানের বক্তব্য বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসের আয়োজিত অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
আয়োজিত অনুষ্ঠান সুন্দর সার্থকভাবে সম্পূর্ণ করার প্রত্যাশায় সকলকে ধন্যবাদের সহিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সভার কার্যক্রম সমাপ্তি করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’