শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে সরকারি খালের উপর পিলার উঠিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
ফরিদগঞ্জে সরকারি খালের উপর পিলার উঠিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সরকারি খালের উপর পিলার উঠিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় স্থানীরা বাঁধা দিলে অবৈধ দখলদার ও তার লোকজন প্রকাশ্যে হুমকি ধমকির মধ্যে রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ৩ নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের দিগদাইর মনতলা খালের উপর অবৈধ স্থাপনা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া যায়। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কারী দূরবর্তী এলাকা থেকে এখানে বাড়ী করেন যার নাম হেলাল উদ্দিন। তিনি চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ এলাকায় বিভিন্ন মক্কেলকে আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি সুবিধা দিয়ে আসছেন বলে জানাযায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন, শাহআলম ও মাসুদ হোসেন বলেন, শতবছরের পুরাতন এ খালটি দিয়ে মনতলা, পাচৈই, ডোমরা, গুয়াটোভাসহ বেশ কিছু উচু কৃষি মাঠে সেচ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। কিন্তু হঠাৎকরে এ লোক এখানে এসে বাড়ী করে তার চলাচলের পথের সুযোগ নিয়ে এখন সরকারি খালের উপর পিলার উঠিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে আসছে। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
পাশ্ববর্তী বাসিন্দা এসপি সোহেল উদ্দিনের বাড়ীর সামনে খাল দখলে বাঁধা দিলে তাও কর্ণপাত করছে না এ হেলাল উদ্দিন। তার হাত নাকি অনেক লম্বা। তাই এখানকার সচেতনমহল তার অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানান।

এ বিষয়ে হেলাল উদ্দিনের কাছে কোন অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একা কি উঠিয়েছি এমন অনেক জায়গা রয়েছে যাদের দেখে আমি এখানে পিলার দিয়ে দুই পাড়ের অংশ দখল করেছি।

Model Hospital

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেন্টু বড়ুয়া বলেন, অভিযোগের আলোকে ইতিমধ্যে স্থানীয় চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনকে সরেজমিনে গিয়ে বিস্তারিত জানানোর নির্দেশনা দিয়েছি, তার আলোকে পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।