বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সদরে ৩৫০ ফলজ গাছের চারা রোপণ

কয়েক বছর পর এই গাছই মানুষের খাদ্য, ছায়া ও নির্মল বাতাসের উৎস হবে: ইউএনও জামিউল হিকমা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৩ পিএম
কয়েক বছর পর এই গাছই মানুষের খাদ্য, ছায়া ও নির্মল বাতাসের উৎস হবে: ইউএনও জামিউল হিকমা

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং উত্তর মনোহরখাদী লায়ন্স ক্লাবের সহযোগিতায় বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের উত্তর মনোহরখাদী এলাকায় বৃক্ষরোপন করেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন জামিউল হিকমা।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের উত্তর মনোহরখাদী এলাকায় ৩৫০টি ফলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং উত্তর মনোহরখাদী লায়ন্স ক্লাবের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা, ক্লাবের সদস্য, তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন জামিউল হিকমা বলেন, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণের বৃহৎ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তর মনোহরখাদী এলাকায় ৩৫০টি ফলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “গাছ আমাদের অক্সিজেন, ফল ও ছায়া দেবে। একটি গাছ বড় হলে শুধু মানুষই নয়, পশুপাখিও উপকৃত হবে। তাই গাছ লাগানোর পাশাপাশি এর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

Model Hospital

ইউএনও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। আজ যে গাছগুলো লাগানো হচ্ছে, কয়েক বছর পর সেগুলোই মানুষের খাদ্য, ছায়া ও নির্মল বাতাসের উৎস হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে উত্তর মনোহরখাদী লায়ন্স ক্লাবের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ ও সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন।

উত্তর মনোহরখাদী লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি কালাম বেপারী বলেন, উপজেলা প্রশাসনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তারা আনন্দিত। আজ রোপণ করা চারাগুলো একদিন বড় হয়ে এলাকার মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিরও উপকারে আসবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের কর্মসূচি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ক্লাবের সদস্য ও এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি প্রবাসে থেকেও ক্লাবের সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসা সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু আজকের জন্য গাছ লাগানো নয়; এটি আগামী দিনের জন্য একটি সবুজ ভবিষ্যৎ তৈরি করা। ফলজ গাছ রোপণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মানুষ যেমন ফল পাবে, তেমনি পশুপাখির জন্যও খাদ্য ও আশ্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে রোপণ করা চারাগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

উল্লেখ্য, উত্তর মনোহরখাদী লায়ন্স ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এর আগে ক্লাবের উদ্যোগে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আলোকিত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমেও সংগঠনটির সদস্যরা ভূমিকা রেখে আসছেন।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে চাঁদপুর সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ রাহাত আমিন পাটওয়ারী,লায়ন ক্লাবের উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, লায়ন্স ক্লাবের সদস্য, তরুণ সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।