শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সিলেটে ঘুরতে গিয়ে ত্রিমূখী সংঘর্ষে চাঁদপুরের দুই পর্যটকদের মর্মান্তিক মৃত্যু: আহত ৮

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
সিলেটে ঘুরতে গিয়ে ত্রিমূখী সংঘর্ষে চাঁদপুরের দুই পর্যটকদের মর্মান্তিক মৃত্যু: আহত ৮
ছুটির দিনে ঘুরতে বের হয়ে সিলেটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চাঁদপুরের দুই পর্যটকের। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আটজন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর থানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৬নং উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড করবন্দ গ্রামের হাসিম বকাউলের ছেলে মোঃ সোহেল বকাউল (৩৬) এবং অপর নিহত ব্যক্তি একই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পিংড়া গ্রামের খালেক তপদারের ছেলে মোঃ খায়রুজ্জামান পিপুল (৪৫)।
দুর্ঘটনায় আহত চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া এলাকার সুজন খান এ প্রতিবেদককে জানান, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে মহামায়া থেকে একটি মাইক্রোবাস সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।
মাইক্রোবাসটি কুমিল্লায় আসলে আমরা কয়েকজন এখান উঠি। আমাদের গাড়িটি যখন সকাল প্রায় ৭টার দিকে সিলেটের শেরপুর থানা এলাকায় পৌঁছায় তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি এ্যাম্বুলেন্স এর সামনে দিয়ে একটি সিএনজি ওভারটেক করতে গিয়ে ধাক্কা লাগে। এতে এ্যাম্বুলেন্সের একপাশ কাত হয়ে আমাদের মাইক্রোবাসটিতে এসে সজোরে ধাক্কা লাগলে সোহেল ও খায়রুজ্জামান এ্যাম্বুলেন্স এর নিচে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তিনি আরো বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিহতদের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। আমাদের সফরসঙ্গী অন্যরা কমবেশি আহত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় আমাদের সবাই ঘুমে ছিলেন, আমিই শুধু চালক শরীফ এর সাথে কথা বলতে ছিলাম। আমাদের চোখের সামনেই ঘটে গেল এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
জানা যায়, নিহত প্রবাস ফেরত সোহেল বকাউল ঢাকার কেরানীগঞ্জে ও খায়রুজ্জামান চাঁদপুর শহরের ব্যবসায়ী ছিলেন।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে- চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া এলাকার শাহাদাত হোসেন মিঠু, মান্দারী এলাকার সফিক মোল্লা, সুজন খান, মাইক্রো চালক শরীফ হোসেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবু তাহের ভাট, আলন প্রধানীয়া সহ আরো দুইজন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার বিষয়ে কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কাটার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাহাদাত হোসেন। তাঁর অভিযোগ, জমির সীমানা নির্ধারণের পর প্রতিপক্ষ নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাটি উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের।
সাহাদাত হোসেন জানান, প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে তিনি সাড়ে তিন শতাংশ জমি কেনেন। সম্প্রতি জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য সার্ভেয়ারের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, নুরু মিয়ার ছেলে সাহাদাত হোসেন, তাঁর ভগ্নিপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাস্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেনের ভাষ্য, জমি পরিমাপের সময় তাঁর কেনা জমির একটি অংশ নুরু মিয়ার দখলে রয়েছে বলে চিহ্নিত হয়। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে জমিটি বুঝে নেন তিনি। তাঁর দাবি, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের পর থেকেই নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলছেন।
সাহাদাত হোসেন আরও বলেন, তাঁর জমিতে কয়েকটি কদমগাছ ছিল। নুরু মিয়া সেগুলো প্রকাশ্যে কেটে ফেলেছেন বলে তিনি দাবি করেন। পরে গাছের অবশিষ্ট গোড়ার ছবি তুলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আমি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। অথচ জমির সীমানা নির্ধারণের পর গাছ কাটার অভিযোগে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কথা প্রচার করা হচ্ছে। এতে আমি বিব্রত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি। আমি চাই, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু জানান, সার্ভেয়ার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমিটি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে গাছ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে নুরু মিয়ার দাবি, তাঁকে না জানিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়েছে এবং তাঁর জমির পাশের গাছ তুলে কেটে ফেলা হয়েছে।
এদিকে, জমি পরিমাপের সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, আপনার ছেলে সাহাদাত হোসেন ও ভগ্নিপতি সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাষ্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন এবং আপনার দখলে থাকা ভূমি কর্মকর্তার জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এমন প্রশ্ন করা হলে নুরু মিয়া এড়িয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, নুরু মিয়া তাঁকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তিনি তা দেননি।
সাহাদাত হোসেন বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তাঁকে দোষারোপ করা সমীচীন নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।