শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পাইকদী-ভাটেরগাঁওয়ে মাদক নির্মূলে মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৬ পিএম
পাইকদী-ভাটেরগাঁওয়ে মাদক নির্মূলে মতবিনিময় সভা
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের পাইকদী ও ভাটেরগাঁও গ্রামে মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধ, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা এবং এলাকায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভা শেষে মাদকবিরোধী মিছিল নিয়ে মোল্লা বাজার পর্যন্ত যান এলাকাবাসী। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে আগামীকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) র‍্যালি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার ২৮ নম্বর পাইকদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হাফেজ তানভীর হোসাইনের পরিচালনায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাইকদী ও ভাটেরগাঁও গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভায় এলাকার মাদক পরিস্থিতি, মাদক প্রতিরোধে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও। মাদকের কারণে তরুণদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে। তাই মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে মাদকসংক্রান্ত তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং আইনসম্মত উপায়ে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করতে ‘পাইকদী ভাটেরগাঁও মাদক নির্মূল কমিটি’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ১৫ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপদেষ্টাদের উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিরা হলেন—কামাল হোসেন মিজি, শফিক কবিরাজ, সোহাগ মেম্বার, সালমান, আলাউদ্দিন, অলক পাটোয়ারী, হেলাল খান, মাওলানা বিলাল হোসাইন, রহিম ভূঁইয়া, মানিক স্যার, সুমন খান, সুমন গাজী, আলী বেপারী, শরিফ পাটোয়ারী ও মহসিন খান।
মতবিনিময় সভা শেষে উপস্থিত এলাকাবাসী মাদকবিরোধী মিছিল নিয়ে মোল্লা বাজার পর্যন্ত যান। এ সময় তাঁরা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এ ছাড়া মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আরও বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করতে আগামীকাল শনিবার র‍্যালি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সম্মিলিত উদ্যোগ, সামাজিক প্রতিরোধ ও নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পাইকদী ও ভাটেরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার হবে। স্থানীয় মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় এলাকায় মাদক প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কাটার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাহাদাত হোসেন। তাঁর অভিযোগ, জমির সীমানা নির্ধারণের পর প্রতিপক্ষ নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাটি উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের।
সাহাদাত হোসেন জানান, প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে তিনি সাড়ে তিন শতাংশ জমি কেনেন। সম্প্রতি জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য সার্ভেয়ারের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, নুরু মিয়ার ছেলে সাহাদাত হোসেন, তাঁর ভগ্নিপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাস্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেনের ভাষ্য, জমি পরিমাপের সময় তাঁর কেনা জমির একটি অংশ নুরু মিয়ার দখলে রয়েছে বলে চিহ্নিত হয়। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে জমিটি বুঝে নেন তিনি। তাঁর দাবি, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের পর থেকেই নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলছেন।
সাহাদাত হোসেন আরও বলেন, তাঁর জমিতে কয়েকটি কদমগাছ ছিল। নুরু মিয়া সেগুলো প্রকাশ্যে কেটে ফেলেছেন বলে তিনি দাবি করেন। পরে গাছের অবশিষ্ট গোড়ার ছবি তুলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আমি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। অথচ জমির সীমানা নির্ধারণের পর গাছ কাটার অভিযোগে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কথা প্রচার করা হচ্ছে। এতে আমি বিব্রত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি। আমি চাই, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু জানান, সার্ভেয়ার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমিটি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে গাছ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে নুরু মিয়ার দাবি, তাঁকে না জানিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়েছে এবং তাঁর জমির পাশের গাছ তুলে কেটে ফেলা হয়েছে।
এদিকে, জমি পরিমাপের সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, আপনার ছেলে সাহাদাত হোসেন ও ভগ্নিপতি সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাষ্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন এবং আপনার দখলে থাকা ভূমি কর্মকর্তার জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এমন প্রশ্ন করা হলে নুরু মিয়া এড়িয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, নুরু মিয়া তাঁকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তিনি তা দেননি।
সাহাদাত হোসেন বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তাঁকে দোষারোপ করা সমীচীন নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।