শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে দুর্গাপূজায় ২৩২ মণ্ডপেপ্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ, চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
চাঁদপুরে দুর্গাপূজায় ২৩২ মণ্ডপেপ্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ, চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড়
শরতের হিমেল হাওয়া, মাঠজুড়ে কাশফুলের দোলা আর শিউলির সুবাস, প্রকৃতিতে বইছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা।এরইমধ্যে  শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর, কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজানোর কাজ। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি।
‎ শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁদপুরের  ২৩২টি পূজামণ্ডপের আয়োজকেরা। জেলার ৮ উপজেলার এসব মণ্ডপে কয়েক হাজার কারিগর ও শ্রমিক দিনরাত কাজ করে চলছেন।
জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলায় ২৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৪১টি, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ২৩টি, হাইমচর উপজেলায় ৬টি, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ২৯টি, মতলব দক্ষিণে ৩৯টি, মতলব উত্তরে ৩৬টি, কচুয়া উপজেলায় ৩৯টি এবং শাহরাস্তি উপজেলায় ১৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
‎সরেজমিনে দেখা যায়, কালিবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে প্যান্ডেল, প্রতিমা, আলপনা ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে  দেবী দূর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মীকে। প্রতীমার আকৃতি দিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন প্রতীমা কারিগররা। রাত দিন চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শিল্পী আর সহযোগিরা মিলে বানাচ্ছেন দূর্গার প্রতিমা। মাটি আর খড় পানি দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে এসব প্রতিমা। এরপর এতে দেওয়া হচ্ছে রং।
 এবার ভিন্ন ভিন্ন থিমে সাজানো হচ্ছে মন্দির প্রাঙ্গণ। ইতিবাচক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের গুণীজনদের ছবি এবং বিভিন্ন উপদেশমূলক বাণীও টানানো হয়েছে মন্ডপগুলিতে।
‎প্রতিমা নির্মাণশিল্পী জগবন্ধু পাল বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁরা দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। এরই মধ্যে কাজ প্রায় অর্ধেক শেষ হয়েছে। বাইরের কাজ শেষ হলেও কারখানার কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এ বছর তাঁরা ১২টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। বর্তমানে ছয়জন মিলে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। পাট ও মাটির দামও বেড়েছে। কাজের শুরুতে ব্যস্ততা ও চাপ থাকলেও প্রতিমা তৈরি শেষে মণ্ডপে স্থাপন করা হলে অন্যরকম আনন্দ তৈরি হয়। এবার প্রতিমা তৈরির জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা তার।
‎কালী মন্দিরে পূজো আয়োজক প্রভাষ সাহা বলেন, গত দুই মাস ধরে প্রতিমা তৈরির  কাজ চলছে। পূজার পাঁচ দিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মহা প্রসাদের ব্যবস্থাও থাকবে। দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিদেশ থেকে ও দর্শনার্থী আসেন বলে জানান তিনি। এবার প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষের আগমন প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।
চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিনয় ভূষণ মজুমদার ও সদস্য সচিব অজিত সাহা জানান, এ বছর চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলায় মোট ২৩২টি মণ্ডপে সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করার লক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা সহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।  উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় দেবী প্রতিমা গড়ার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে আলোকসজ্জা ও মণ্ডপ সজ্জার প্রস্তুতিও পুরোদমে শুরু হয়েছে।
এদিকে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলসহ সকলের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পূজা উদযাপন সুন্দরভাবে করা যাবে। আনসার সদস্যদের সরকার যে সম্মানী দিয়েছে, এর মধ্যেই কাজ করতে হবে। সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। মন্ডপগুলোতে সাধ্যের মধ্যেই সিসি ক্যামেরা বসাবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়াতে পারে। যে যেখানে থাকবেন, আমাদের জানাবেন। পূজা উপলক্ষে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। আমরা যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবো।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, সবাই মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হবে। আমরা সকল পূজামণ্ডপকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনব। পূজামণ্ডপগুলোকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে কোনো অপতথ্য প্রচার না হয়। সকলের অবস্থান থেকে পূজার সময় সহযোগিতা করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সবাই পূজা উদযাপন পরিষদকে সহযোগিতা করবেন।
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর পৌরসভাসহ সকল পৌরসভাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনো পূজামণ্ডপে সমস্যা থাকলে তা আমাদের জানাবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার হলে আমাদের জানাবেন অথবা জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে অবহিত করবেন। পূজার সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগ আলাদা মেডিকেল টিম রাখবে। পূজামণ্ডপের আশপাশে দোকান বা বাজার থাকতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই যাতে মেলা না বসে। কিশোর গ্যাংয়ের প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ৬ দিনব্যাপী এই প্রাণের উৎসব। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এ বছরের দুর্গাপূজার।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি বলেন, পূজোতে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা অতন্দ্র প্রহরির মতো স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মন্ডপ কমিটিসহ সবার সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। আমরা চাই, নির্বিগ্নে পূজা উৎসব পালনে কোন বিগ্নতা না ঘটুক। এটা আমাদের দলীয় প্রধান তারেক রহমানের নির্দেশনাও রয়েছে।

ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচারের শিকার ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কাটার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাহাদাত হোসেন। তাঁর অভিযোগ, জমির সীমানা নির্ধারণের পর প্রতিপক্ষ নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাটি উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের।
সাহাদাত হোসেন জানান, প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে তিনি সাড়ে তিন শতাংশ জমি কেনেন। সম্প্রতি জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য সার্ভেয়ারের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, নুরু মিয়ার ছেলে সাহাদাত হোসেন, তাঁর ভগ্নিপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাস্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
ভূমি কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেনের ভাষ্য, জমি পরিমাপের সময় তাঁর কেনা জমির একটি অংশ নুরু মিয়ার দখলে রয়েছে বলে চিহ্নিত হয়। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে জমিটি বুঝে নেন তিনি। তাঁর দাবি, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের পর থেকেই নুরু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ তুলছেন।
সাহাদাত হোসেন আরও বলেন, তাঁর জমিতে কয়েকটি কদমগাছ ছিল। নুরু মিয়া সেগুলো প্রকাশ্যে কেটে ফেলেছেন বলে তিনি দাবি করেন। পরে গাছের অবশিষ্ট গোড়ার ছবি তুলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আমি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। অথচ জমির সীমানা নির্ধারণের পর গাছ কাটার অভিযোগে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কথা প্রচার করা হচ্ছে। এতে আমি বিব্রত ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি। আমি চাই, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু জানান, সার্ভেয়ার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমিটি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে গাছ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে নুরু মিয়ার দাবি, তাঁকে না জানিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়েছে এবং তাঁর জমির পাশের গাছ তুলে কেটে ফেলা হয়েছে।
এদিকে, জমি পরিমাপের সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান কালু, আপনার ছেলে সাহাদাত হোসেন ও ভগ্নিপতি সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মাষ্টারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন এবং আপনার দখলে থাকা ভূমি কর্মকর্তার জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এমন প্রশ্ন করা হলে নুরু মিয়া এড়িয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, নুরু মিয়া তাঁকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তিনি তা দেননি।
সাহাদাত হোসেন বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তাঁকে দোষারোপ করা সমীচীন নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।