বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

সেজেছে প্রতিমা, কচুয়ায় ৩৯ পূজামণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আবু সাঈদ, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
সেজেছে প্রতিমা, কচুয়ায় ৩৯ পূজামণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

কচুয়ার কোয়া পোদ্দার বাড়ির দুর্গাপ্রতিমার মাটির কাজ শেষে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর অপরূপ রূপ।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ৩৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন রঙের শেষ আঁচড়ে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমাকে সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। দুর্গোৎসবের ক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও পূজার আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি।
পূজার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। প্রচলিত পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবীর আগমন ঘোটকে এবং গমন নৌকায়।
পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৩৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। এসব মণ্ডপের মধ্যে উপজেলা পরিষদসংলগ্ন কোয়া পোদ্দার বাড়ির সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ অন্যতম প্রাচীন। এ বছর এ মণ্ডপে ১৪৬তম শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।
প্রতিমাশিল্পী কালু গোস্বামী ও বাবুল কারিগর জানান, প্রতিমা নির্মাণের মূল কাজ শেষ করে এখন রঙের মাধ্যমে দেবীকে নান্দনিক রূপ দেওয়ার কাজ চলছে। শেষ মুহূর্তে কাজের চাপ বেশি থাকলেও প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাঁদের ভাষায়, দেবীকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে পারলেই শিল্পী হিসেবে মনের মধ্যে প্রশান্তি আসে।
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ফণিভূষণ মজুমদার তাপু ও সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সাহা বলেন, উপজেলার ৩৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমাশিল্পীরা শেষ মুহূর্তের রং-তুলির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে, যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করা যায়।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৩৯টি পূজামণ্ডপে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সর্বজনীন উৎসব নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণে ডিও লেটার দিয়েছি, হোস্টেল ও নতুন ভবনও হবে: এমপি মমিনুল হক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণে ডিও লেটার দিয়েছি, হোস্টেল ও নতুন ভবনও হবে: এমপি মমিনুল হক

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণ করতে ইতোমধ্যে ডিও লেটার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হক। একই সঙ্গে কলেজে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক হোস্টেল, নতুন একাডেমিক ভবন এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া কলেজের হীরকজয়ন্তী উদ্‌যাপনেও সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন এই সংসদ সদস্য।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হক বলেন, “হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের পরিবেশ এত সুন্দর, এখানে না এলে তা জানতেই পারতাম না। কলেজের পরিবেশ দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। এ কলেজকে জাতীয়করণ করতে ইতোমধ্যে ডিও লেটার দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের আবাসন, নতুন একাডেমিক ভবন ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে আসার সময় হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের বিষয়ে কথা বলার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে কলেজটি জাতীয়করণের জন্য ডিও লেটার দেন।

Model Hospital

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোযাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জাহেদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এমএ রহিম পাটওয়ারী এবং পৌর বিএনপির সদস্যসচিব মো. খোরশেদ আলম ভুট্টো।

উপাধ্যক্ষ আনোয়ার উল্যাহ, সহকারী অধ্যাপক তৌহিদা আক্তার ও সেলিম পাটোয়ারীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষক প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমান, বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. এমরান হোসেন, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাব উদ্দিন সাবু, দাতা সদস্য মো. মোস্তফা মজুমদার সুমন এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে ইশা তাহমিনা ঐশি ও নূরজাহান আক্তার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ হাসান মিয়াজী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল খায়ের মজুমদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সরোয়ার হোসেন ভুলো মুন্সী, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক টিটু ও মো. বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারীসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের জাতীয়করণ, শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাসকে ঘিরে নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে নতুন প্রত্যাশার বার্তা নিয়ে আসে।