বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় তফিরা ছালেহিয়া হাফেজিয়া মাদরাসায় কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৭ পিএম
কচুয়ায় তফিরা ছালেহিয়া হাফেজিয়া মাদরাসায় কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তফিরা ছালেহিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ, সবক প্রদান ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় মাদরাসা হল রুম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে তাদেরকে সংবর্ধনা, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দ্বীনি শিক্ষার অগ্রগতি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
হাফেজ মাওলানা কুতুবউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যৌথভাবে পরিচালনা করেন তফিরা ছালেহিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার মুহতামিম তামিম আসরাফ বিন কুতুবউদ্দিন ও হাফেজ মাওলানা মামুনুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার সভাপতি ও কুমিল্লা মেডিকেল মসজিদের খতিব মাওলানা হাফেজ মোস্তফা কামাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ লিয়াকত আলী, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম, মাদরাসার সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মনির হোসেন এবং ১০ নং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোঃ আতিকুর রহমান বাবুল।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা শাহাজালাল, বিশিষ্ট সমাজসেবক জানে আলম, মোবারক হোসেন মাস্টার ও জাহাঙ্গীর আলম মিয়া, মাওলানা মফিজুল ইসলাম এবং মুফতি ওমর ফারুক শাহজীসহ মাদরাসার শিক্ষক, কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং যোগ্য ও আদর্শ মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে মাদরাসা শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও ভালো ফলাফলে শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে এবং ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং মাদরাসার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সার্বিক অগ্রগতি কামনা করা হয়।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।