বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় চাংপুর গ্রামকে একক ওয়ার্ড করার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ পিএম
কচুয়ায় চাংপুর গ্রামকে একক ওয়ার্ড করার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

কচুয়ার চাংপুর গ্রামকে একক ওয়ার্ড গঠনের দাবিতে মানববন্ধন করছেন এলাকাবাসী।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৩নং বিতারা ইউনিয়নের চাংপুর গ্রামকে এককভাবে একটি ওয়ার্ড হিসেবে গঠনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে কচুয়া-সাচার আঞ্চলিক সড়কের চাংপুর-শিমুলতলী মোড়ে সর্বস্তরের গ্রামবাসীর উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, কচুয়া উপজেলার অন্যতম বৃহত্তম ইউনিয়ন ৩নং  বিতারা ইউনিয়নকে দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে চাংপুর গ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান, সামাজিক ঐক্য, জনস্বার্থ ও সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে গ্রামটিকে এককভাবে একটি ওয়ার্ড হিসেবে রাখার দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, চাংপুর গ্রামের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক বন্ধন, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। গ্রামটিকে একাধিক ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হলে সামাজিক কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
তাঁরা আরও বলেন, ইউনিয়ন যেভাবেই পুনর্গঠন করা হোক না কেন, চাংপুর গ্রামকে যেন একক ওয়ার্ড হিসেবে রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনস্বার্থ ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দেলোয়ার ভূঁইয়া, নজরুল মাস্টার, রোকন, কবির হোসেন, কামাল হোসেন, হাবিব ভূঁইয়া, হারুনুর রশীদ ও মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মানববন্ধন থেকে চাংপুর গ্রামকে একক ওয়ার্ড হিসেবে গঠনের দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।