শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজে ফেল ৭২০ জন, উপজেলায় পাসের হার ৪৪.৩৪ শতাংশ

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজে ফেল ৭২০ জন, উপজেলায় পাসের হার ৪৪.৩৪ শতাংশ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার ৪৪.৩৪ শতাংশ। গত চার বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজে ১ হাজার ২৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে ৭২০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৭ জন। এমন ফলাফলে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৭১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ২০৩ জন। সে হিসাবে উপজেলায় পাসের হার ৪৪.৩৪ শতাংশ।

গত চার বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালে হাজীগঞ্জে পাসের হার ছিল ৯৭.১২ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭৭.৯৭ শতাংশে। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৬৭.৮৬ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে তা আরও কমে হয় ৫৭.৩০ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৬ সালে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৪.৩৪ শতাংশে।

উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৭৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪০৯ জন। পাসের হার ৫৩.৩৯ শতাংশ। এ ছাড়া এ কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

Model Hospital

কাকৈরতলা জনতা কলেজ থেকে ১০৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫৫ জন। পাসের হার ৫২.৮৮ শতাংশ। দেশগাঁও ডিগ্রি কলেজ থেকে ১১১ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫৮ জন। পাসের হার ৫২.২৫ শতাংশ।

হাজীগঞ্জ আইডিয়াল কলেজ অব এডুকেশন থেকে ৩১ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৫ জন। পাসের হার ৪৮.৩৮ শতাংশ।

বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজ থেকে ৮৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১১ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১২.৭৯ শতাংশ, যা উপজেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন।

নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ থেকে ১২৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩০ জন। পাসের হার ২৩.৪৪ শতাংশ। হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৯৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩০ জন। পাসের হার ৩০.৬১ শতাংশ।

এ ছাড়া ধড্ডা মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে ১১২ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৮ জন। পাসের হার ৩৩.৯৩ শতাংশ।

সার্বিকভাবে হাজীগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার টানা চার বছর ধরে কমছে। বিশেষ করে হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজে ৭২০ জন শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র সাতটিতে সীমাবদ্ধ থাকা ফলাফল নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিভাগের অভিযান! হাজীগঞ্জ-কচুয়া-শাহরাস্তিতে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩২ এম
গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিভাগের অভিযান! হাজীগঞ্জ-কচুয়া-শাহরাস্তিতে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার রোধ এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিশেষ নৈশ অভিযান পরিচালনা করছে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। এরই ধারাবাহিকতায় সমিতির আওতাধীন হাজীগঞ্জ, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর উদ্যোগে পরিচালিত এসব অভিযানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিযানের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বৈধ গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটারে কারচুপি শুধু বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষতি করে না, এটি জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি। অনিরাপদ সংযোগের কারণে শর্টসার্কিট, অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন অতিরিক্ত লোডের কারণে বিদ্যুতের ভোল্টেজে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা বৈধ গ্রাহকদের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

Model Hospital

অবৈধ সংযোগের তথ্য দিতে আহ্বান

নিজ নিজ এলাকায় কেউ অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে কিংবা বিদ্যুতের মিটারে কারচুপি করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১।

এ-সংক্রান্ত অভিযোগ ও তথ্য জানাতে ০১৭৬৯৪০০৩২৬ অথবা ১৬৮৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা জরুরি। তাই বিদ্যুতের অপচয় ও চুরি রোধে সবাইকে বৈধ উপায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং অনিয়মের তথ্য দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।