শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

৫০ বছর ধরে যে পথে চলাচল, সেই পথেই ইটের দেয়াল! অবরুদ্ধ শত শত মানুষ, কাঁদছে অসহায় পরিবারগুলো!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
৫০ বছর ধরে যে পথে চলাচল, সেই পথেই ইটের দেয়াল! অবরুদ্ধ শত শত মানুষ, কাঁদছে অসহায় পরিবারগুলো!

একটি রাস্তা শুধু চলাচলের পথ নয়, এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অপরিহার্য অংশ। সেই পথ বন্ধ হয়ে গেলে থমকে যায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এমনই দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন চাঁদপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরহাট দক্ষিণ দাসদী এলাকার কয়েক শ মানুষ। প্রায় ৫০ বছর ধরে চলাচলে ব্যবহার হয়ে আসা একটি রাস্তা ইটের দেয়াল ও বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন অর্ধশতাধিক পরিবার। স্কুলগামী শিশু, অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

এ ঘটনায় রাস্তা খুলে দেওয়ার দাবিতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয়দের দাবি, বাবুরহাট দক্ষিণ দাসদী এলাকার প্রায় ২০টি বাড়ির কয়েক শ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। এটি কোনো পরিত্যক্ত পথ নয়; বরং প্রায় পাঁচ দশক ধরে তাঁদের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু হঠাৎ করে ইটের দেয়াল ও বাঁশের বেড়া দিয়ে পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চলাচলের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

Model Hospital

শনিবার দুপুরে রাস্তা খুলে দেওয়ার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় ভুক্তভোগীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানান।

তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অবহিত করেছেন তাঁরা। এমনকি বিরোধপূর্ণ জায়গাটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেবে, যাতে শিশুদের শিক্ষাজীবন, রোগীদের চিকিৎসা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে রাস্তা বন্ধের ঘটনায় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মানিক বেপারী। তাঁর দাবি, রাস্তার পাশের জায়গাটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। সেখানে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানও রয়েছে। অন্যরা জোরপূর্বক ওই জায়গা দিয়ে চলাচলের রাস্তা তৈরি করতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফলে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথের ব্যবহার ও জায়গার মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

একদিকে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন অর্ধশতাধিক পরিবার, অন্যদিকে জায়গাটির মালিকানা নিয়ে রয়েছে পাল্টাপাল্টি দাবি। এ পরিস্থিতিতে বিরোধের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জায়গার মালিকানা ও পথ ব্যবহারের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে এমন একটি সমাধান করা হোক, যাতে কারও ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন না হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়।

দীর্ঘদিনের এই বিরোধের অবসান ঘটিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা বাবুরহাট দক্ষিণ দাসদী এলাকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।

‘সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের রাস্তায় পেলে গ্রেপ্তার করা হবে’ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
‘সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের রাস্তায় পেলে গ্রেপ্তার করা হবে’ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি

‘সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেপেলেদের যদি রাস্তায় পাওয়ায় যায়, তাহলে তাদের ধরা হবে, গ্রেপ্তার করা হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ প্রধান আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী (ডিআইজি)।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরিতে অবস্থিত শহীদ সুভাষ হলে আয়োজিত নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও সামাজিক অপরাধ দমন বিষয়ক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডিআইজি বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের উপরে আপনাদের নিয়ন্ত্রণ নেই, আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। যে সময়ে বই-খাতা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, তাদেরকে বিকেল বেলায় রাস্তায় প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখা যায় এবং বিভিন্ন রকম অঙ্গভঙ্গিতে শিস মারতে দেখা যায়। এই ছেলে-মেয়েগুলো কার জন্য নষ্ট হচ্ছে, পারিবারিক শাসনটা কোথায়? এটা যদি থাকে তাহলে তো কিশোর গ্যাং তৈরি হয় না।’

তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কিশোর গ্যাং এই দেশ থেকে নির্মূল করব। কিশোর গ্যাং বলতে কিছু থাকবে না। এটি পুরোপুরি নির্মূল করতে আমাদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

Model Hospital

সমাবেশে পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান ও জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজার শহরটা ব্যতিক্রম। এখানে বহুমাত্রিক অপরাধ সংঘটিত হয়। জেলা পুলিশ সম্প্রতি অপরাধ দমনে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ আয়োজিত এই সুধী সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।