ফরিদগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার সরকারি ঘর নির্মাণে বাধা প্রয়োগের অভিযোগ!
মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭নং পাইকপাড়া ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধার ঘর নির্মাণকাজে বাধা প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে নির্মাণাধীন ঘরের ৬ শতাংশ জায়গার মধ্যে কিছু সম্পত্তি মালিকানা দাবি করে তারা এ বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উপাদী গ্রামের তপদার বাড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম রুহুল আমিন তপদারের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি উদ্যোগে “বীর নিবাস” নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তবে নির্মাণকাজের জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী বশির উল্যাহ তপদার গং পরিবারের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি এ “বীর নিবাস” নামক ঘর নির্মাণে তারা কয়েকবার বাঁধা দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে ৬ মাসের সময় দিয়েছেন তাদেরকে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে না মেনে তারা মুক্তিযোদ্ধার ঘরের সামনে চলাচলের জন্য কেনা আড়াই শতাংশ সম্পত্তিতেও বেড়া দিয়ে গাছ রোপণ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন তপদারের স্ত্রী সাজেদা বেগম বলেন, আমার স্বামী ২০২১ সালে মারা যাওয়ার পর একমাত্র ছেলে পেশাগত কারনে অন্যত্র থাকায় পুত্রবধূকে নিয়ে বসবাস করে আসছি। আমরা দুইজন নারীর সঙ্গে তারা দলবল নিয়ে আমাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঝামেলা করে আসছে। এ নিয়ে আমরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের সম্পত্তিতেই সরকারি উদ্যোগে এই ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এবং বাড়িতে যাতায়াতের পথের জন্য আলাদাভাবে আড়াই শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেশী বশির উল্যাহ বসু তপদারের পরিবারের লোকজন নির্মাণাধীন ঘরের জায়গার মধ্যে তাঁদের কিছু অংশ রয়েছে বলে দাবি করে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।
প্রতিপক্ষ বশির উল্যাহ তপদারের পরিবারের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার নির্মাণাধীন বিল্ডিং এর ভিতরে আমাদের জায়গা রয়েছে। তাই আমরা বাঁধা দেই এবং তারা বিচারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিল্ডিং এর সিঁড়ি করায় আমরাও পথের মধ্যে বেড়া দিয়েছি।’ এদিকে এ বিরোধের কারণে এখন নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধার নামে সরকারি বরাদ্দকৃত ঘর নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুল হামিদ তপদার এ প্রতিবেদককে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার নামে সরকারি এ ঘর নির্মাণে প্রতিবেশি বসু তপদাররা বাঁধা দিলে বৈঠকের মাধ্যমে আমরা তাদেরকে ৬ মাসের সময় দিয়েছি। একজন ভালো সার্ভেয়ার দিয়ে পূনরায় জায়গাটি মেপে সমাধান করা হবে। কিন্তু তারা আমাদের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের চলাচলের পথসহ নির্মাণাধীন ঘরের কোল ঘেঁষে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এটা মোটেও ঠিক করেন নি তারা।
এদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা প্রিয় চাঁদপুরকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সরকারিভাবে আমাদের ৭টি ঘরের কাজ চলমান রয়েছে। এরমধ্যে তপদার বাড়ির ঘরটি নির্মাণ করতে গিয়ে প্রতিবেশীরা বাধা সৃষ্টি করলে তাদেরকে উপজেলায় আসার জন্য বলা হলেও তারা আসেন নি। তারপরও বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের প্রতিনিধিকে দায়িত্ব দিয়েছি। যদি না হয় তাহলে ইউএনও এবং এসিল্যান্ড সহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিবো।








