বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার সরকারি ঘর নির্মাণে বাধা প্রয়োগের অভিযোগ!

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম
ফরিদগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার সরকারি ঘর নির্মাণে বাধা প্রয়োগের অভিযোগ!
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭নং পাইকপাড়া ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধার ঘর নির্মাণকাজে বাধা প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে নির্মাণাধীন ঘরের ৬ শতাংশ জায়গার মধ্যে কিছু সম্পত্তি মালিকানা দাবি করে তারা এ বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উপাদী গ্রামের তপদার বাড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম রুহুল আমিন তপদারের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি উদ্যোগে “বীর নিবাস” নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তবে নির্মাণকাজের জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী বশির উল্যাহ তপদার গং পরিবারের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি এ “বীর নিবাস” নামক ঘর নির্মাণে তারা কয়েকবার বাঁধা দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে ৬ মাসের সময় দিয়েছেন তাদেরকে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে না মেনে তারা মুক্তিযোদ্ধার ঘরের সামনে চলাচলের জন্য কেনা আড়াই শতাংশ সম্পত্তিতেও বেড়া দিয়ে গাছ রোপণ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন তপদারের স্ত্রী সাজেদা বেগম বলেন, আমার স্বামী ২০২১ সালে মারা যাওয়ার পর একমাত্র ছেলে পেশাগত কারনে অন্যত্র থাকায় পুত্রবধূকে নিয়ে বসবাস করে আসছি। আমরা দুইজন নারীর সঙ্গে তারা দলবল নিয়ে আমাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঝামেলা করে আসছে। এ নিয়ে আমরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের সম্পত্তিতেই সরকারি উদ্যোগে এই ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এবং বাড়িতে যাতায়াতের পথের জন্য আলাদাভাবে আড়াই শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেশী বশির উল্যাহ বসু তপদারের পরিবারের লোকজন নির্মাণাধীন ঘরের জায়গার মধ্যে তাঁদের কিছু অংশ রয়েছে বলে দাবি করে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।
প্রতিপক্ষ বশির উল্যাহ তপদারের পরিবারের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার নির্মাণাধীন বিল্ডিং এর ভিতরে আমাদের জায়গা রয়েছে। তাই আমরা বাঁধা দেই এবং তারা বিচারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিল্ডিং এর সিঁড়ি করায় আমরাও পথের মধ্যে বেড়া দিয়েছি।’ এদিকে এ বিরোধের কারণে এখন নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধার নামে সরকারি বরাদ্দকৃত ঘর নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুল হামিদ তপদার এ প্রতিবেদককে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার নামে সরকারি এ ঘর নির্মাণে প্রতিবেশি বসু তপদাররা বাঁধা দিলে বৈঠকের মাধ্যমে আমরা তাদেরকে ৬ মাসের সময় দিয়েছি। একজন ভালো সার্ভেয়ার দিয়ে পূনরায় জায়গাটি মেপে সমাধান করা হবে। কিন্তু তারা আমাদের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের চলাচলের পথসহ নির্মাণাধীন ঘরের কোল ঘেঁষে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এটা মোটেও ঠিক করেন নি তারা।
এদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা প্রিয় চাঁদপুরকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সরকারিভাবে আমাদের ৭টি ঘরের কাজ চলমান রয়েছে। এরমধ্যে তপদার বাড়ির ঘরটি নির্মাণ করতে গিয়ে প্রতিবেশীরা বাধা সৃষ্টি করলে তাদেরকে উপজেলায় আসার জন্য বলা হলেও তারা আসেন নি। তারপরও বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের প্রতিনিধিকে দায়িত্ব দিয়েছি। যদি না হয় তাহলে ইউএনও এবং এসিল্যান্ড সহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিবো।

কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ
কচুয়ায় একটি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একপেশে প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী মোছা. আছমা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ কচুয়া আমলি আদালতে ২৫৩/২০২৫ নম্বর মামলা হিসেবে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন আছমা। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি চাঁদপুরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম।
বাদীর অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ওই কর্মকর্তা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি টাকা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই না করেই একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ আইজিপির দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বাদী। এতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং অন্য কোনো নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বিবাদী আসমা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার সন্তানের হত্যাকারীর বিচারের জন্য মামলা দায়ের করলে, সরজমিনে তদন্ত জন্য আদালত নির্দেশ দেয়। পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম মামলা তদন্ত করতে আসলে আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দেওয়ার পরও বিবাদীর কাছ থেকে আরো অধিক সুবিধা নিয়ে  একতরফা তদন্ত রিপোর্ট দেয়। আমি ন্যায় বিচারের জন্য আদালত, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।