বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

জীর্ণ টিনশেড ঘর মেরামত করতে গিয়েও বাধা! কচুয়ার মাদ্রাসা ঘিরে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ পিএম
জীর্ণ টিনশেড ঘর মেরামত করতে গিয়েও বাধা! কচুয়ার মাদ্রাসা ঘিরে বিতর্ক
কচুয়া উপজেলার কোমরকাশা জামালিয়া ইসলামিয়া কমপ্লেক্স ও দাখিল মাদ্রাসার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষ মেরামতে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবারের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শ্রেণীকক্ষ মেরামত করতে গেলে ব্যক্তি মালিকানা জায়গা দাবি করে ইতালি প্রবাসী আবুল কালাম তার লোকজন এনে বাঁধা প্রদান করেন। এই নিয়ে বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষের মধ্যে যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা অথবা আইন-শৃঙ্খলা অবনতি ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৪ সালে কোমরকাশা মৌজার ১০৪ দাগের ২০ শতাংশ জমি এবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার আব্দুল লতিফের বরাবর দান করেন জমিদাতা আম্বর আলী। কোমরকাশা গ্ৰামের মনিরুজ্জামান ভূয়া কাগজপত্র করে ২০০৫ সালে  ইতালির প্রবাসী আবুল কালাম এর কাছে বায়না দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করে দেন। এ নিয়ে  কোমরকাশা জামালিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার কতৃপক্ষ ও প্রবাসী আবুল কালামের মধ্যে আদালতে মামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ২০ বছর ধরে এই যায়গায় মাদ্রাসার কতৃপক্ষরা শ্রেণী কক্ষ করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছে। মূলত এই জায়গাটি মাদ্রাসার । মাদ্রাসা ও প্রবাসী আবুল কালাম এর সাথে বিরোধ সৃষ্টি করেছে মনিরুজ্জামান।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু সালে জানান, গত মঙ্গলবার মাদ্রাসার টিনশেড ঘর মেরামত করতে গেলে মেহেদী হাসান সাগর ও নুরুজ্জামান আমার উপর চড়া হন এবং গালিগালাজ করেন। আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি ধামকি প্রদান করে।
তিনি আরো জানান, ১৯৮৪ সালে ২০ শতাংশ জায়গা কোমরকাশা জামালিয়া ইসলামিয়া কমপ্লেক্স ও দাখিল মাদ্রাসায় দান করেছেন আম্বর আলী নামে এক দানশীল ব্যক্তি। আমি এখানে যোগদান পর থেকে এই জায়গায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি।
ইতালি প্রবাসী আবুল কালাম জানান, আমি ইতালি থেকে ২০০৫ সালে এলাকায় এসে মনিরুজ্জামান, নুরুজ্জামান ও আনারুজ্জামানের কাছ ১৪২ শতাংশ জায়গা ক্রয় করি। ওই সময় বিভিন্ন কারণে মনিরুজ্জামানের এই ২০ শতাংশ জায়গা আমাকে রেজিস্ট্রি করে দেননি। কিন্তু এই জায়গার জন্য আমার কাছ থেকে বায়নার টাকা নিয়েছেন এবং আমি ২০ বছর ধরে ভোগদখল রয়েছি‌। আমি প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে  মার্কেট করি। ওই মার্কেটে জোরপূর্বক ভাবে দখল করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছে।

কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ
কচুয়ায় একটি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একপেশে প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী মোছা. আছমা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ কচুয়া আমলি আদালতে ২৫৩/২০২৫ নম্বর মামলা হিসেবে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন আছমা। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি চাঁদপুরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম।
বাদীর অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ওই কর্মকর্তা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি টাকা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই না করেই একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ আইজিপির দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বাদী। এতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং অন্য কোনো নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বিবাদী আসমা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার সন্তানের হত্যাকারীর বিচারের জন্য মামলা দায়ের করলে, সরজমিনে তদন্ত জন্য আদালত নির্দেশ দেয়। পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম মামলা তদন্ত করতে আসলে আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দেওয়ার পরও বিবাদীর কাছ থেকে আরো অধিক সুবিধা নিয়ে  একতরফা তদন্ত রিপোর্ট দেয়। আমি ন্যায় বিচারের জন্য আদালত, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।