শাহরাস্তিতে মেধাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষায়, মেধার লড়াইয়ে ১ হাজার ৯২০ শিক্ষার্থী
মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৭ পিএম
শাহরাস্তি মেধাবৃত্তি ফাউন্ডেশনের বার্ষিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬ সফল ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার চারটি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের সুপ্ত মেধা ও প্রতিভা অন্বেষণ, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আগামী দিনের যোগ্য প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এ প্রয়াশ।এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির মোট ১ হাজার ৯২০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
পরীক্ষা উপলক্ষে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপিত শাহরাস্তি সপ্রাবি কেন্দ্র ছাড়াও শোরসাক সপ্রাবি, খিলাবাজার সপ্রাবি ও উঘারিয়া সপ্রাবি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ছিল স্বস্তি ও উৎসাহ। আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের পরীক্ষায় শ্রেণিভিত্তিক অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রথম শ্রেণিতে ২৯৬ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩৬৯ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৪১ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪২২ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৪৯২ জন। সব মিলিয়ে চারটি কেন্দ্রে ১ হাজার ৯২০ জন শিক্ষার্থী এ মেধা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নেয়।
আয়োজকরা আরও জানান, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত শাহরাস্তি মেধাবৃত্তি ফাউন্ডেশন (SMF) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরিতে কাজ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় ১০ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ এবং মেধাবী শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে প্রতিবছর এ বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এ ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন মো. কামাল হোসেন, মো. আলাউদ্দিন, মো. মোতাহের হোসেন, মো. আব্দুর রহিম, বিজয় লাল দে, মোহাম্মদ হোসাইন, শাহ এমরান, হারুন অর রশিদ শেখ, জয় লাল দে ও ইকবাল হোসেন।
এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কামাল হোসেন বলেন, ‘একটি শিক্ষিত ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মেধা যাচাই, সৃজনশীলতা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করা। আমাদের এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো শাহরাস্তির প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও লুকিয়ে থাকা প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করা। আমরা বিশ্বাস করি, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। সবার সহযোগিতা পেলে এ উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।
ওইদিন পরীক্ষা চলাকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক ও অভিভাবকরা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন। তাঁরা শিক্ষার প্রসার, মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।








