শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে পরকীয়ার জের ধরে যুবক খুন, গ্রেপ্তার ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২, ২:১০ পিএম
মতলব উত্তরে পরকীয়ার জের ধরে যুবক খুন, গ্রেপ্তার ২

মতলব উত্তর ব্যুরো : চাঁদপুরের মতলব উত্তরে পরকীয়ার জের ধরে এক যুবক খুন হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। নিহতের নাম সোহেল রানা পাঠান (২৫)। সোমবার এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পরকিয়া প্রেমিক সুফিয়া বেগম (২৫) ও প্রেমিকার স্বামী মাসুদ পাঠান (৩৩) কে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।

উপজেলার পূর্ব ষাটনল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে ওই গ্রামের সোহেল রানার বাবার কবরের পাশের ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সোহেল রানার চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। একটি চোখ উঠিয়ে ফেলা হয়।

নিহত সোহেল রানা পাঠান উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের পূর্ব ষাটনল গ্রামের মৃত. নুরুল হক পাঠানের ছেলে। এই হত্যা ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সোহেল রানার প্রেমিকা সুফিয়া বেগম (২৫) ও তার স্বামী মাসুদ (৩৩)কে গ্রেপ্তার করেছে। আটককৃত সুফিয়া বেগম নিহত সোহেল রানার ফুফাতো ভাইয়ের স্ত্রী। এ ঘটনায় নিহতের মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে শনিবার রাতেই মতলব উত্তর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এদিকে সোমবার সকালে গ্রেপ্তার দু’জনকে আদালতে সোর্পদ করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

Model Hospital

জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলার উত্তর ছেংগারচর গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে সুফিয়া বেগম এর প্রায় ৪ বছর আগে পূর্ব ষাটনল গ্রামের হাবিব উল্লাহ পাঠানের ছেলে মাসুদ পাঠানের সাথে বিয়ে হয়। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর ফুফাতো ভাইয়ের স্ত্রী সুফিয়ার সাথে নিহত সোহেল রানার পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরই সূত্র ধরে গত ১ এপ্রিল রাতে সোহেল রানাকে ডেকে নেয় সুফিয়া। এরপর থেকে তাকে আর খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

সোহেল রানা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন। ঘটনার পর থেকেই চাঁদপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মইনুল হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) ইযাছিল আরাফাত, মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেছেন।

এ ব্যাপারে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন পরকিয়া প্রেমের জের ধরে সুফিয়া ও তার স্বামী মাসুদ প্রেমিক সোহেল রানাকে হত্যা করার পর লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে রাখে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। তবে কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং আর এর সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামীদের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে আদালতে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’