সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের উষা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২, ৪:০৭ পিএম
ফরিদগঞ্জের উষা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ

এস. এম ইকবাল : মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ফরিদগঞ্জের কৃতি সন্তান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আমিনুল হক মাস্টারের নাতনী ফারহানা হক উষা ২০২১-২২ সালের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ৫ এপ্রিল মঙ্গলবার প্রকাশিত ফলাফলে এমন তথ্য জানা গেছে।

উষার পরিবার সূত্রে জানাগেছে, ২০০৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার সাফুয়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে উষার জন্ম হয়। ফারহানা হক উষা ফরিদগঞ্জ বালিকা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনি পরীক্ষা ও ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস এবং ২০১৯ সালে এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে। এরপর উষা ২০২১ সালে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরিক্ষায়ও জিপিএ ৫ পেয়েছে উষা।

২০২২ এর মেডিকেল পরিক্ষায় পাবনা সরকারি মেডিকেল কলেজে সিলেক্টেড হয়েছেন উষা।
ফারহানা হক উষা ফরিদগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আমিনুল হক মাস্টারে তৃতীয় ছেলের মঈনুল হক ফারুক ও মাতা মোরশেদা বেগমের ছোট মেয়ে।

ফলাফল প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উষা বলেন, আমার এই অবস্থানে আসার পেছনে আমার বাবা-মা এবং পরিবারের লোকজনের সীমাহীন ভূমিকা রয়েছে।

Model Hospital

উষা আরো জানান, বাবা- মায়ের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই ডাক্তারি পড়ায় মনোযোগী হই এবং ছোটবেলা থেকেই ‘ডাক্তার হওয়ার বিষয়ে আমার স্বপ্ন ছিল। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথম চাওয়া হলো, একজন ভালো ডাক্তার হওয়া। সেই সঙ্গে একজন ভালো মানুষ হওয়া, যাতে মানুষের সেবা করতে পারি।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।