শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

অনতিবিলম্বে নিঃশর্তভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে; সফরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২, ৪:৪১ পিএম
অনতিবিলম্বে নিঃশর্তভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে; সফরী

স্টাফ রিপোর্টার : দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুস্থতা কামনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খান সফরীর উদ্যোগে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩ নং কল্যাণপুর ইউনিয়নে নিজ বাড়ীতে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কল্যাণপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সার্বিক তও্বাবাধয়নে আয়োজিত উক্ত ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠান পূর্বে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা খান সফরী।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এখন আমাদের একমাত্র দাবী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। আন্দোলনের মাধ্যমে এ জালিম সরকারকে বিদায় করে আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে বীরের বেশে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন,বিএনপি এদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল, এই দলে ১টি পদে নেতৃত্ব দেওয়ার একাধিক ব্যক্তি রয়েছে। অতএব জিয়ার আর্দশের সৈনিকদের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা নয়। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিধা দ্বন্দ্ব নেই। বিএনপি এক ও অভিন্ন। আমাদের লক্ষ্য বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। অতএব দাবি একটাই নিঃশর্ত মুক্তি চাই দিতে হবে।

Model Hospital

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, ঢাকা বারের আইনজীবী বিএনপি নেতা আশ্রাফুল ইসলাম, চাঁদপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেন পাটোয়ারী, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক কামরুজাম্মান হাসানাত, বিএনপি নেতা মানিক মাল, সেলিম মজুমদার, অ্যাড. জসিম মেহেদী, আশিকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, মনির মিজি, জহিরুল ইসলাম, জিন্টু মাল, হাসেম রুশদী, ডা. সফিকুর রহমান, হারুন ভাট, মোজাম্মেল হোসেন মিজি, শাহাজাহান মাল, মফিজুল ইসলাম শোভন, কাকন খান, মজিবুর রহমান, আলমগীর হোসেন, মাসুদ পালোয়ান, যুবনেতা আবু আহমেদ,পাবেল খান, হাবিবুর রহমান মিঠু, মো. হানিফ, মহসীন তপাদার, বাবুল হোসেন, সাইফুল ইসলাম রনি, নূরে আলম মিয়াজী, সুমন পাটোয়ারী, ইয়াছিন গাজী, মনির মিয়াজী, শাহআলম প্রধানীয়া, ছাত্রনেতা মো. জনিসহ মতলব উত্তর, দক্ষিন, আশিকাটি, কল‍্যানপুর, শাহমাহামুদপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও অন‍্যান‍্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা, তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনা ও মোস্তফা খান সফরী বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ির জন্য দোয়া করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাও. আবু ছায়েদ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’