শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি রায়শ্রী উত্তর ইউপি যুবদলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২২, ৪:১৬ পিএম
শাহরাস্তি রায়শ্রী উত্তর ইউপি যুবদলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত 
মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের  শাহরাস্তি উপজেলা রায়শ্রী উত্তর ইউপির বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল ৪ টায় ইউপির উনকিলা বাজারস্থ দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে এটি  অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাহরাস্তি উপজেলা চলমান যুবদলের ইউপি কমিটি গঠনের  অংশ হিসেবে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবারের সম্মেলন ছিল সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক দৃষ্টিনন্দন পদ্ধতিতে। প্রতিটি ভোটারদের ক্রমিক নাম্বার ভোটার আইডি কার্ড সনাক্ত করে তাদের গলায় ডেলিগেটার কার্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া ব্যালেট পদ্ধতিতে ভোট দিতে পেরে দলীয় কর্মী সমর্থকরা ছিল উৎসবমুখর। ওই সময় মূল দল যুবদল ছাত্রদল সহ দলীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ওইদিন ইউপি যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি  গোলাম মোস্তফা ইকবালের সঞ্চালনায় ইউপি যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলী আজগর মিয়াজী উদ্বোধনে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং আগামী দিনগুলোতে শাহরাস্তি হাজীগঞ্জের গণমানুষের নেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং তারুণ্যের অহংকার দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির পথ সুগম করতে যুবদলের সুসংগত হওয়ার বিকল্প নাই। আজকের এই কমিটি তারেই প্রয়াস।
এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কারানির্যাতিত নেতা মো: ফারুক হোসেন মিয়াজী, উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোজাহের হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন খোকন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক এড. শাহেদুল হক মজুমদার সোহেল, প্রধান বক্তা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এহেতেশামুল হক গনি । এছাড়া সম্মেলন শেষে শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান হেডমাস্টার এবং সাবেক দুই বারের উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি’র সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী সহ উপজেলা এবং অত্র ইউপির ১০জন প্রয়াত নেতার স্মরণে ইফতার মাহফিল পূর্বক দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রয়াত নেতাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে সভাপতি পদে মোরগ প্রতীকে ৬৫ ভোট পেয়ে মোঃ শাহজাহান মিয়া  গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়  কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন,  মোটরসাইকেল প্রতীকে ১১৪ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মো সাইমুন মাসুদ,  সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মাইক প্রতীকে ১০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন গোলাম মোহাম্মদ সোহেল।
পরে নির্বাচিত যুবদলের ইউপি নেতৃবৃন্দ উপজেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ কে সুষ্ঠু সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’