শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় ড. মিলনের বাড়িতে ইফতার মাহফিল, হাজার জনতার ঢল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২, ২:২৫ পিএম
কচুয়ায় ড. মিলনের বাড়িতে ইফতার মাহফিল, হাজার জনতার ঢল
নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুরের কচুয়ায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আ.ন.ম এহছানুল হক মিলনের গ্রামের বাড়ি গোবিন্দপুর মিয়াজী বাড়ীতে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ এপ্রিল ) ইফতার পূর্বে গোহট দক্ষিণ, গোহট উত্তর, আশরাফপুর,কড়ইয়াসহ ৪ টি ইউনিয়ন বিএনপি ও দলীয় সকল অঙ্গসংগঠন উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। গোহট দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো: শাহ্ জাহান মজুমদারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুন নবী খান সুমন এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে  বক্তব্য রাখেন- সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ.ন.ম এহছানুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয়তাবাদী  মহিলা দলের  কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভানেত্রী নাজমুন নাহার বেবী। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপি সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ফারুকী, সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুবাস ও কড়ইয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মালেক।
ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা  কাজি আবুল হোসেন, উপজেলা ওলামাদলের সভাপতি মাওলানা কবির হোসেন, কচুয়া উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক শরীফুল হক শাহজী, কচুয়া পৌর বিএনপি’র সভাপতি বিল্লাল হোসেন মজুমদার, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি কালু মিয়া কমিশনার, সাধাণ সম্পাদক মানিক উপজেলা যুবদলের সভাপতি আবদুস সালাম শান্ত, যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন আবেগ,সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম তালুকদার রনি, ৯ নং কড়ইয়া  ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান প্রধান, ১০ নং গোহট উত্তর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবু আব্দুল্লাহ নয়ন, ১২  নং আশরাফপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শরীফ মোহাম্মদ শফি উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, ছাত্রদল নেতা রহিছ উদ্দিন চৌধুরী।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, প্রবাসী জাফর ইকবাল পলাশ, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মায়া  জুনায়দ সহ দলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ  হাজার হাজার নেতা- কর্মী এবং সমর্থকদের উপস্থিতিতে উক্ত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’