শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেরীবাঁধে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০২২, ১:৩৬ পিএম
মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেরীবাঁধে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

মনিরুল ইসলাম মনির : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সেচখাল ও নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ সংলগ্ন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন ৬৫ কিলোমিটার এলাকা হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উদমদী পাম্প হাউজ সংলগ্ন এলাকা থেকে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরীফুল হাসান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেদায়েত উল্যাহ, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সরকার মো. আলাউদ্দিন উপস্থিত থেকে অর্ধ শতাধিক শ্রমিকসহ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

উচ্ছেদ পরিচালনার সময় অনেকেই তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি। আবার অনেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম দেখে দ্রুত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালপত্র সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

Model Hospital

পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুর রহমান ভুঁইয়া জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের পাশে ১২৫ জন বালু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তাদের প্রত্যেককে নোটিশ করা হয়েছে। কিন্তু তারা ব্যবসা বন্ধ করেনি। যে কারেণে তাদের ব্যবসা কেন্দ্রে আজকে লাল পতাকা টানিয়ে ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়।

নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, সেচ প্রকল্পের ৬০ কিলোমিটার বাঁধের ৫ কিলোমিটার করে প্রতিদিন উচ্ছেদ কার্যক্রম চলবে। ভেক্যু দিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেয়া হয়। উচ্ছেদের পূর্বে অবৈধ দখলে থাকা ২ হাজার ৩শ’ ৫০ জনকে নোটিশ ও স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে বালু ব্যবসা পরিচালনকারী ১শ’ ২৫ জনকে নোটিশ করা হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, অভিযানের প্রথমদিনে ৫ হেক্টর ভূমি উদ্ধার করা হয়। এতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করতে পেরেছি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেদায়েত উল্যাহ বলেন, সকাল ১০ টা থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি। সকল মহল থেকে যথাযথ সাড়া পাচ্ছি। আমাদের উচ্চেদ অভিযানে আমরা কাঙ্খিত লক্ষমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আগামীদিনেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উচ্ছেদ অভিযানে মতলব উত্তর থানা পুলিশের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, সেচ প্রকল্প এলাকার পানি ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ সার্বিক সহযোগিতা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’