শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ কড়্ইয়া ইউনিয়ন আ.লীগের বর্ধিত সভা, জনপ্রিয়তায় এগিয়ে সালাম সওদাগর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১, ২:৩৭ পিএম
আজ কড়্ইয়া ইউনিয়ন আ.লীগের বর্ধিত সভা, জনপ্রিয়তায় এগিয়ে সালাম সওদাগর

মো: রাছেল, কচুয়া : পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার প্রচারণা, গনসংযোগ ও ভোটারদের সাথে মতবিনিময় শুরু করে দিয়েছে কচুয়া উপজেলার সকল ইউনিয়নে।

আজ মঙ্গলবার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বাচাই করার লক্ষে কড়ইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা।

বর্ধিত সভাকে ঘিরে এলাকা সরগরম হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা মার্কার প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম সওদাগর, বর্তমান চেয়ারম্যান আহসান হাবীব জুয়েল, ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক তারেক সামস্ মিঠু, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জিকে আলমগীর, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জিসান আহম্মেদ,উপজেলা যুবলীগের সদস্য মঞ্জুর এলাহী মজুমদার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন কামাল। এদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব চাচ্ছে ইউনিয়ন ও আওয়ামী লীগের নেতৃবন্দ ও এলাকাবাসী।

সোমবার সরজমিনে কড়ইয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া, কালচোঁ, দরিয়া হয়াতপুর, বাসাবাড়িয়া, সাদিপুরা চাঁদপুর, নলুয়া, লুন্তি, শ্রীরামপুর, আকানিয়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আজকের বর্ধিত সভাকে ঘিরে দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে।

Model Hospital

ওই এলাকার সকলেই এ বৎসর ইউপি নির্বাচনে নৌকার নতুন মাঝি দেখতে চায়। নেতাকর্মীদের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায়, বর্তমান সাংসদ ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপির আস্থাভাজন প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাালাম সওদাগর। ইতিমধ্যেই তিনি এলাকায় সাংসদের সহযোগীতায় বেশকিছু দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করেছেন। তার মধ্যে ইউনিয়নের সকল রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্ট্রীট লাইট, রাস্তা ঘাট প্রসস্থকরণ, রাস্তাঘাট সংস্কার, স্কুল ও মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মানে সহযোগীতা করেন।

পাশাপাশি তিনি যুব সমাজকে নিয়ে মৎস্যচাষ, গবাদি পশু পালন, অনাবাদি জমিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। করোনা কালীন সময়ে তিনি কড়ইয়া ইউনিয়নে অক্সিজেন সেবা প্রদানের পাশাপাশি লকডাউনের সময় কর্মহীন দিন মজুর ও অসহায় মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া তিনি সব সময় গরীব ও অসহায় মানুষদের পাশে দাড়িয়ে বিভিন্ন ভাবে তাদের সহযোগীতা প্রদান করে আসছেন। এসকল কারনেই তিনি ইউনিয়ন বাসীর কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

কড়ইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল জলিল মেম্বার ও সহসভাপতি এনামুল হক মিন্টু , আলী আকবর শেট জানান, আজ আমাদের ইউনিয়নে বর্ধিত সভা। এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা ও জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন আমাদের ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম সওদাগর । তাকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দিলে কড়ইয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদটি সহজে আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে। তার পক্ষে দলের সকল নেতাকর্মীরা একত্রে হয়ে কাজ করবে এবং জয় লাভ করবে নৌকা প্রতীক এমন আশা করছেন তারা।

ইউনিয়ন যুবলীগের ডাক্তার মনির হোসেন জিলানী, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য সুমন সিকদার, ৪নং ওর্য়াড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন জানান, সালাম সওদাগরের ব্যক্তিগত ইমেজ, পারিবারিক ইমেজ ও দীর্ঘদিনের দলের নিবেদিত একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে বেশ পরিচিতি রয়েছে এলাকাজুড়ে।

এছাড়া সমাজসেবক হিসাবে তিনি বেশ পরিচিত। করোনা মহামারীকালীন সময়ে তিনি কর্মহীন পরিবারের মাঝে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্য এবং অক্সিজেন সেবার মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার রক্তশিরায় বহমান বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্থানীয় সাংসদ ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপির জন্য রয়েছে শ্রদ্ধা, অফুরন্ত ভালোবাসা।

দলের যেকোনো দুঃসময় দল এবং দলের কর্মীদের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন এই নেতা। তিনি নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যামে দলকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করেন। এবার তিনি কড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী। কড়ইয়া ইউনিয়নের তৃনমূলের নেতা কর্মী ও সাধারন ভোটাররা তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই।

সেই লক্ষ নিয়েই ইতোমধ্যে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন তিনি। প্রায়ই প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটাররা রাজনীতির মাঠের পরীক্ষিত প্রবীন নেতা আব্দুস সালাম সওদাগরকে পেয়ে ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। তিনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই সাধারন মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। তার নিজস্ব কোন চাওয়া পাওয়া নেই। তিনি রাজনীতিকে মানব সেবা হিসেবে মনে করেন। ভোটারদের কাছে এবার যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আব্দুস সালাম সওদাগরকে দলীয় প্রতীক নৌকা মার্কায় মনোনয়ন দেওয়ার দাবী উঠছে সবর্ত্র।

একান্ত সাক্ষাৎকারে আব্দুস সালাম সওদাগর এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষে মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্যারের সহযোগীতায় কড়ইয়া ইউনিয়নকে উন্নয়নের রোলমডেল হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। তার পাশাপাশি ইউনিয়নবাসীর পাশে দাড়িয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেবা করে যেতে চাই।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’