শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দৈনিক চাঁদপুর খবরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১, ৩:১৪ পিএম
দৈনিক চাঁদপুর খবরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর জেলা শহর থেকে নিয়মিত প্রকাশিত দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৫ নভেম্বর (সোমবার) সকাল ১১টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব রোডস্থ দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকা কার্যালয়ে পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক মো: শওকত করিমের পরিচালনায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন, পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বলেন, দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকাটি আগামী ২৩ ডিসেম্বর ১৫তমবর্ষ উদযাপন ও ১৬তমবর্ষে পর্দাপণ করবে । এ জন্য পত্রিকার পাঠক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই । কারণ পাঠকই আমাদের মুল শক্তি । পাঠকদের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতায় পত্রিকাটি টিকে আছে । তিনি বলেন, পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এবারও সীমিত পরিসরে নানা আয়োজন থাকবে ।

উপজেলা প্রতিনিধিগণ স্ব স্ব উপজেলায় পত্রিকার নামে স্টিকার, ব্যানার,কেক কাটা,বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা করে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করতে পারবে।সেই ধরনের গাডলাইন দেওয়া হবে । পাশাপাশি চাঁদপুর জেলা শহরে ও গুরুত্বপুর্ন স্থানে বিশেষ করে মহামায়া,বাবুরহাট ও সদর উপজেলা পরিষদের কর্মসূচী থাকবে ।সর্বশেষ জেলা শহরের মূলক প্রোগ্রাম থাকবে চাঁদপুর প্রেসক্লাব কিংবা এলিট চাইনিজে ।জেলা শহরেও পত্রিকার নামে স্টিকার, ব্যানার,শুভেচ্ছা বিনিময়, পত্রিকার সাংবাদিকদের স্মারক ক্রেস্ট, কেক কাটাসহ নানা আয়োজন করা হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে।

Model Hospital

তিনি বলেন,দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রান মফস্বল ও উপজেলার সাংবাদিকরা। একটি পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশনা করা চ্যালেঞ্জিং। আর এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দৈনিক চাঁদপুর খবর । আপনারা কমবেশ পত্রিকাকে সহযোগিতা করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমি চাই দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকাটি আঞ্চলিক দৈনিক হিসেবে শ্রেষ্ঠ পত্রিকায় রুপান্তরিত হবে। পত্রিকা শ্রেষ্ঠ করার জন্য যা যা করা দরকার তাই করবো। পত্রিকার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে অনলাইনে। মোবাইল থেকে যাতে নিউজ অনলাইনে দেওয়া যায় সে ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা স্ব স্ব আইডি থেকে পত্রিকা ফেসবুকে দিবেন। অনলাইনটাকে সর্বোচ্চ আপডেট করা যায়, তার ব্যবস্থা করা হবে। পাঠক মহলে জনপ্রিয় করারই উদ্দেশ্য । গুরুত্বপূর্ন নিউজ দ্রুত নির্ধারিত সময়ে পাঠাতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রধান সম্পাদক এম আই মমিন খান,পত্রিকার সহকারি বার্তা সম্পাদক আহম্মদ উল্ল্যাহ, মফস্বল সম্পাদক এম এম কামাল, সহকারি সম্পাদক এম আই দিদার, চীপ রির্পোটার সাঈদ হোসেন অপু চৌধুরী, সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার গাজী মো: ইমাম হাসান, স্টাফ রির্পোটার (ফরিদগঞ্জ) এসএম ইকবাল, ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি মো: মামুন হোসাইন, স্টাফ রির্পোটার (মহামায়া) মো: মাসুদ হোসেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি মো: হাবিবুর রহমান, মতলব উত্তর উপজেলা প্রতিনিধি মো: নাঈম মিয়াজী।

এসময় প্রস্তুতিমূলক সভায় উপস্থিত ছিলেন, পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার মো: রানা সরকার, ম্যানেজার মানিক দাস, অফিস সহকারি মো: হযরত আলীসহ অন্যান্যরা।

জানা গেছে,দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকাটি আগামী ২৩ ডিসেম্বর ১৫তম বর্ষ উদযাপন ও ১৬তম বর্ষে পর্দাপণ করবে । বিগত ২০০৬ সালে ১৩ এপ্রিল সাপ্তাহিক এবং ২০১৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর দৈনিক হিসেবে চাঁদপুর খবর আত্নপ্রকাশ ঘটে ।

সভায় সকল উপজেলায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন। জেলা শহর ,প্রত্যেক উপজেলার গুরুত্বপূর্নস্থানে ও ইউনিয়ন পরিষদের সম্মুখে বিলবোর্ড লাগানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন, পত্রিকার সহকারি বার্তা সম্পাদক আহম্মদ উল্ল্যাহ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’