শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের মামলায় বিএনপি নেতাসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২, ১১:৩০ এম
ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের মামলায় বিএনপি নেতাসহ আটক ২

এস এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য মাইকিং করতে গিয়ে স্থানীয় ক্ষুদ্ধ জনতা কর্তৃক ৫ কর্মকর্তা কর্মচারিকে মারধর ও সরকারী কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মেঘনা পাড়ের এক জমিদার ও বিএনপির সাবেক নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ মালার খবর শুনে ২৩ জুন বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থী ছাড়াও বিদ্যুতের লোড শেডিং এ অতিষ্ঠ হয়ে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী মানব বন্ধন করেছে। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে উক্ত মামলা ও পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সাবেক ইউপি চোরম্যান বিল্লাল হোসেন , ব্যবসায়ী আমিন পাটওয়ারী. সাংবাদিক জাহিদ হোসেন, ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম, হাসান আলী ও ব্যবসায়ী রিয়াদ হোসেন।

পল্লী বিদ্যুতের করা মামলায় আটককৃত দুই আসামী উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও রুপসা বাজার ব্যবসায় কমিটির সভাপতি জামাই ফারুক (৪৬) ও জামাল হোসেনকে (৩৫) পুলিশ গ্রেফতার করে ২৩ জুন বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, পল্লী বিদ্যূতের বকেয়া বিলা আদায়ের জন্য গত ২০ জুন সকাল ১১ টায় জোনাল অফিসের বাবুল মিয়া ব্যাটারী চালিত একটি অটোরিকসা ভাড়া নিয়ে ওই এলাকায় মাইকিং করতে যায়। এ সময় বিদ্যুতের অব্যহত লোডসেডিং এ অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয়রা ক্ষুদ্ধ হয়ে তাদের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়।

Model Hospital

এ খবর পেয়ে পল্লী বিদূুতের এজিএম মো. মহসিন ও সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম সহ কয়জন ঘটনাস্থুলে গেলে ক্ষুদ্ধ জনতা তাদের উপরও চড়াও হয়। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে পল্লী বিদ্যুতের ৫ জনকর্মকর্তা ও কর্মচারী ওই এলাকার জমিদার খ্যাত সৈয়দ মেহেদী হাছান চৌধুরীর উপস্থিতে তার বসত বাড়িতে অবস্থান নেয়ার পর ক্ষুদ্ধ জনতা সেখানেও তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থুলে গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের ৫ জনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামী সৈয়দ মেহেদী হাছান চৌধুরী বলেন, এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের অব্যহত লোড সেডিংএ অতিষ্ঠ জনতা তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে আমার বসত বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে নিরাপদে হেফাজতে রেখে বিষয়টি সমজোতা করে আবার তাদেরকেই পুলিশের উপস্থিতিতে বিনা বাধায় চলে যেতে সাহায্যে করেছি। এখন দেখি ওরা চলে গিয়ে উল্টো আমাকে প্রধান আসামী করে মামলা দেয়ার বিষয়টি উদ্দেশ্য মূলক বলে আমি মনে করি।

এ নিয়ে এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান কাউছারুল আলম কামরুল ইসলাম তাৎক্ষনিক কোন বক্তব্য দিতে রাজী নয় উল্লেখ করে এ সংবাদদাতাকে বলেন, তিনি পরে লিখিত আকারে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে বক্তব্য দিবেন।

পল্লী বিদ্যূতের ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. প্রকৌশলী কামাল হোসেন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা রয়েছে বিদ্যুতের বকেয়া বিল আদায় করতে । বিল পরিশোধ না করলে বিদ্যূৎ বিচ্ছিন্ন করারও সরকারী নির্দেশনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ওই ঘোষনা বাস্তবায়ন হিসেবে গ্রাহকের বকেয়া বিল পরিশোষের অনুরোধ জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করতে গেলে স্থানীয় জনতা পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে অহেতুক মারধর করা ছাড়াও কয়েক ঘন্টা তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, সরকারী কাজে বাধা দেয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগে সৈয়দ মেহেদী হাছান চৌধুরীকে প্রধান আসামী করে ৮ জনের নাম উল্লেখ সহ অঙ্গাত নামা আরো ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুইজনকে আটক করে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’