সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মতলবে জমি সংক্রান্ত বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষ আহত ৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুন, ২০২২, ৬:১৭ পিএম
মতলবে জমি সংক্রান্ত বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষ আহত ৬
স্টাফ রিপোর্টার : মতলবে জমি সংক্রান্ত বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৬ জন আহতের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল রোববার (২৬ জুন) বিকেলে মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী ইউনিয়নের করবন্দ গ্রামের হাজী বাড়িতে বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ছয় জন আহত হয়ে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
আহতরা হলেন, মানিক মিয়া (৪২), সরোয়ার হোসেন (৩৫), জাফর ইকবাল (৩০) ও মাজেদা বেগম (৫০), মোস্তফা হোসেন (৩০), রুবি আক্তার (২৫)।
সংঘর্ষে আহত শাহিনা সুলতানা তাৎক্ষণিক ট্রিপল নাইনে ফোন করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত মানিক মিয়া ও সরোয়ার হোসেনের ছোট ভাই আশরাফ হোসেন বলেন, মৃত ইউসুফ আলী হাজীর ছেলে মোস্তফা হাজীর সাথে আমাদের সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে, যা চলমান। একাধিকবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সম্পত্তির বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা সমাধান করতে চাইছে না।
সম্পত্তির বিরোধ সমাধান না হওয়ার আগেই আজকে তারা জোরপূর্বক বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণ করে। বাউন্ডারি নির্মাণ কাজ দেখে আমার মা ও বোন গিয়ে তাদেরকে বাধা দেয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মা ও বোনের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। মা ও বোনের উপর হামলা হলে আমার বাড়িতে থাকা ভাইয়েরা এগিয়ে গেলে মোস্তফা হাজী লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তাদেরকে গুরুতর আহত করে। দ্রুত তাদেরকে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাই। সরোয়ার জানান, মোস্তফা হাজী, মোস্তফার শশুর মিন্টু ও তার শ্যালক হৃদয় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে।
এ বিষয়ে মোস্তফার শশুর মিন্টু বলেন, আমার মেয়ের জামাই বিদেশে থাকে। অল্প কয়েকদিন হয়েছে দেশে এসেছেন। আবুল বাশার হাজির ছেলে মনির হোসেন মিন্টু ও তার ভাইয়েরা দীর্ঘদিন যাবৎ তাদেরকে অত্যাচার করে আসছে। আমার মেয়ের জামাই মোস্তফা তার নিজের সম্পত্তিতে বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ করতে আসলে তারা বাধা দেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমার মেয়ের জামাই ও মেয়ে সহ তিন জন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদেরকে চাঁদপুর সরকারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। স্থানীয় ভাবে বসে সমাধানের চেষ্টা করলেও তারা আসেনি।
ঘটনাস্থলে আশা মতলব দক্ষিণ থানার এস আই রুহুল আমিন বলেন, ত্রিফল নাইনে ফোন পেয়ে আমরা এসেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উভয় পক্ষকে শান্ত করেছি। তারা যদি থানায় লিখিত অভিযোগ করে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।