বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে পারিবারিক অশান্তি ও ঋণগ্রস্থ হয়ে বৃদ্ধর আত্মহত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০২২, ২:৫১ পিএম
মতলব দক্ষিণে পারিবারিক অশান্তি ও ঋণগ্রস্থ হয়ে বৃদ্ধর আত্মহত্যা

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব : মতলব দক্ষিণে পারিবারিক কলোহের জের ধরে ফজলু মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধ বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল ১৭ জুলাই সকাল ১১ টার দিকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পারিবারিক অশান্তি ও ধার দেনাসহ বিভিন্ন চিন্তায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি স্বজন ও এলাকাবাসির। নিহত ফজলু মিয়া নারায়ণপুর পূর্ব বাজারে স্যানেটারি ব্যবসা করতেন।

ফজলু মিয়া উপজেলার কাজিয়াারা গ্রামের মৃত ছেরু মিয়া প্রধানের ছেলে। এ ঘটনায় মতলব দক্ষিণ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহত ফজলু মিয়ার এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কাজিয়ারা এলাকার মৃত ছেরু মিয়া প্রধানের ছেলে ফজলু মিয়া পারিবারিক অশান্তি ও ধার দেনাসহ বিভিন্ন চিন্তায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে রবিবার সকালে পরিবারের লোকজনের অগোচরে কিটনাশক (কেরির বরি) খায়। পরে তার ভাগনী দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার দিলে আসপাশের লোকজন এসে উদ্ধার করে প্রথমে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। পরে খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করে।

Model Hospital

এদিকে মৃত ফজলু মিয়ার চাচা খলিল হাজী জানান, ফজলুর স্ত্রী প্রতিদিন ফজলুর সাথে ঝগড়া-ঝাটি করতো। এতে ফজলু মানষিকভাকে সবসময় হতাশাগ্রস্থ থাকতো। স্ত্রীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই ফজলু আত্মহত্যার পথ বেচে নিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রাব্বানী দেওয়ানজী জানান, ফজলু মিয়া ও তার স্ত্রী সবসময় ঝগড়া হতো বলে বাড়ির লোকজন আমাকে জানিয়েছে। গেল কোরবানীর ঈদে গরু বিক্রির তিন লক্ষ টাকা ছিল। দেনা শোধ করতে টাকা চাইলে তার স্ত্রী টাকা দেয়নি। এনিয়েও তাদের মধ্যে ঝামেলা ছিল।

মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, পারিবারিক অশান্তি ও ধার-দেনার কারনে ফজলু মিয়া নামে এক বৃদ্ধ বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।