শাহরাস্তিতে কাজ না করেই রাস্তা সংস্কারের টাকা মেম্বারের পকেটে!
প্রিয় চাঁদপুর রিপোর্ট : শাহরাস্তিতে রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ওই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আব্দুল গফুর এই নেককারজনক ঘটনার জন্ম দেন। সম্প্রতি অতি দরিদ্র ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের বিপরীতে সরকার এই প্রকল্পটি বরাদ্দ দেয়। কিন্তু প্রকল্পটির চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টরা দায়সারা গোছের (১৭ হাজার টাকা ব্যয় করে) শ্রমিক লাগিয়ে কাজটি শেষ করে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসী বলেন, এ প্রকল্পে যুক্ত সদস্যরা রাস্তাটি নির্মাণে তড়িঘড়ি করে নামমাত্র মাটি ফেলে প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষনা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে। যার কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ওই কান্ডের প্রতিকার চেয়ে ওই ইউনিয়নের রায়শ্রী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা জনৈক রহমত উল্লাহ (গত ২৭ -জুলাই) চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগকারীর আবেদন, স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, সরকারের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে অতি দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর (ইউজিপিপি) আওতায় ওই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের তোফায়েল মাষ্টারের বাড়ির সম্মূখ ইটার সলিং রাস্তা থেকে শেখ শাহজাহানের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তা পর্যন্ত সংস্কার কাজের জন্য ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। ওই টাকার বিপরীতে প্রকল্পে সংশ্লিষ্টরা ১৭ হাজার টাকার কাজ করেন বলে জেলা প্রশাসকের নিকট দায়েরকৃত অভিযোগে মোঃ আঃ গফুর উল্লেখ করেন। ওই অভিযোগে তিনি আরো জানান, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরাং ১ম দিন ৫শ টাকা হাজিরায় ৭ জন, ২য় দিন ৬ জন, ৩য় দিন ৬ জন,৪র্থ দিন ৪ জন শ্রমিকসহ মোট ২৩ হাজিরায় এ কাজ শেষ করা হয়।

এদিকে সরেজমিনে ওই প্রকল্পে গণমাধ্যম কর্মীরা পরিদর্শনে এলে স্থানীয়রা এ রাস্তায় নামমাত্র ৫-৬ জন শ্রমিক ২-৩ দিন মাটি ফেলে প্রকল্প শেষ করার অভিযোগ করেন। রায়শ্রী গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান, মোঃ জয়নাল আবেদীন,বিপু মজুমদার, আ করিম, মাওঃ কাজী মজিবুর রহমান,মোখলেসুর রহমান জানান, ওই রাস্তায় দৃশ্যমান কোন কাজ হয়নি! সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নিজ ইচ্ছে মত সামান্য মাটি ভরাটের কাজ করেন। যা প্রকপ্লের হরিরলুটের ফাঁয়তারা মাত্র।

এছাড়া স্থানীয়রা আরো জানায়, পূর্বে এ রাস্তায় গ্রামবাসী অনুদানে যে ইট বালি খোয়া ফেলা হয়েছে সেটি এখনো দৃশ্যমান। তাদের প্রশ্ন তাহলে নতুন মাটি গেল কোথায় ? এ ব্যাপারে ওয়ার্ড আলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান জানান, পূর্বে এ রাস্তায় গ্রামবাসীর করা কাজ ব্যতীত নতুন করে কোন কাজের অস্তিত্ব নেই। প্রকল্প কমিটির সেক্রেটারি ও ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি মোঃ ছফি উল্যাহ জানান, তিনি ওই প্রকল্পের সদস্য সচিব হওয়া সত্ত্বেও ওই কাজের প্রাককলন ব্যয় কিংবা কাজ সমাপ্তি বিল উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেনা বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
তিনি এও বলেন, ওই ইউপি সদস্য তাকে একটি উপঢৌকন দিতে চেয়েছিল তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই প্রসঙ্গে প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আঃ গফুর জানান, নির্বাচনী প্রতিহিংসার জেরে স্থানীয়ভাবে এসব ষড়যন্ত্র সংঘটিত হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে হয়েছে। কিছু লোক সুবিধা না পেয়ে আমাদের রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এসব অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। যা মিথ্যা প্রমাণিত হবে।
এ বিষয়ে রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোশারফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এ প্রকল্পটিতে তিনি উপজেলা প্রকৌশলী সঙ্গে নিয়ে তিন দিন পরিদর্শন করেছেন। এটির ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। এরপরও যদি কোন অনিয়মের অভিযোগ উঠে অবশ্যই সেটি খতিয়ে দেখা হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সকলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।








