শাহরাস্তিতে সম্পত্তির দখল নিতে মামলা হামলা ও হয়রানির অভিযোগ ভূক্তভোগি পরিবারের
বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সম্পত্তির দখল নিতে মামলা, হামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছে এক ভুক্তভোগি পরিবার। যে কোন সময় এ নিয়ে প্রাণনাশের আশংকা করছে ভুক্তভোগি ওই পরিবারটি। উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের রাঢা মাস্টার কাজি বাড়ির মৃত কাজী আবদুল মজিদ মাস্টারের পুত্র মোহাম্মদ কাজী আবু ওমর এ অভিযোগ করেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়ির মৃত কাজী আবদুল মজিদ মাস্টারের পুত্র মোহাম্মদ আবু ওমর (৪৩) তার মালিকীয় দখলিয় সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে একই গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার পুত্র আলমগীর হোসেন (৫৭) জোর পূর্বক বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে দু’পক্ষের লোকদের মাঝে উত্তেজনা প্রশমনে শনিবার (৩০ জুলাই) সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় মোহাম্মদ আবু ওমর তার বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করলে প্রতিপক্ষ আলমগীর হোসেন বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, চাঁদপুর আদালতের মাধ্যমে ওই কাজের নিষেধাজ্ঞা করান।

মোহাম্মদ আবু ওমরের দাবী জজ কোর্টের আদেশ গোপন রেখে আলমগীর হোসেন এডিএম কোর্টে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থণা করে তার নিজ ভূমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে কালক্ষেপন করছেন। অথচ তিনি উচ্চ আদালতের রায়ে এ ভূমির বৈধ মালিক ও দখলদার।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ কাজী আবু ওমর জানান, আমি আমার মালিকীয় দখলিয় (২৩৪নং রাঢ়া মৌজার সিএস ৫নং খতিয়ানভূক্ত সাবেক ১২০ হালে ১৯২ দাগে মোঃ .০৮ একর) সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে এলাকার কতিপয় অসাধু, স্বার্থনেষী, ভূমিদস্যুদের সহযোগিতায় জনৈক আলমগীর হোসেন কাজে বাঁধা দেন। দীর্ঘদিন ধরে আমি আমার সম্পত্তিতে কোন কাজ করতে পারছি না। যখনই কাজ শুরু করি তখনই তারা মিথ্যা মামলা ও হামলা করে আমি সহ আমার পুরো পরিবারকে হয়রানি করছে। আমি সর্বশেষ জজ কোর্টের আদেশে ওই সম্পত্তির মালিক দখলকার। তারপরও তারা গায়ের জোরে আমার সম্পত্তি দখল নেয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
ইতোমধ্যে তাদের হামলায় আমার পরিবারের লোকজন ও নির্মাণ শ্রমিকরা তাদের ইট পাটকেল নিক্ষেপে আহত হয়েছে। এছাড়া আমার বসতঘরের প্রাচীর ও থাই গ্লাস ভাংচুর করা হয়েছে। আমি ওই ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করেছি। প্রতিপক্ষ আলমগীর হোসেন সম্পত্তির কোন মালিকানা না থাকা স্বর্তেও এলাকার কতিপয় দুষ্টু প্রকৃতির লোকদের একজোট করে আমার কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে এমনটি করছে।
এ বিষয়ে আলমগীর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ২৩৪নং রাঢ়া মৌজার সিএস ৫নং, এসএ ৫নং, বিএস ৪১৪নং খতিয়ানভূক্ত সাবেক ১২০, ১২৩, ১১০ দাগে হাল ১৯২ দাগে নাল মোঃ .৩১ একর সম্পত্তি ক্রয় করি। প্রতিপক্ষ আবু ওমর আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে।
এ বিষয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, চাঁদপুর আদালতে আমার দায়েরকৃত মিস মামলা নং-১২৯/১৮ খ্রিঃ অনুকূলে শাহরাস্তি থানা পুলিশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এছাড়া জজ কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে আপিল করেছি।








