বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২, ৩:১৭ পিএম
ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা সম্পন্ন

মোঃ রাছেল : সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি বলেছেন, আগষ্ট মাস শোকের মাস।

এ মাসেই কুলাঙ্গাররা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গকে নির্মমভাবে হত্যা করে। শোকের মাসে বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। এ রাষ্ট্রের মালিক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সু-সংগঠিত।

এ বর্ধিত সভায় আপনাদের তৃণমূলের নেতা কর্মীদের দাবী কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের। আপনাদের দাবীর সাথে আমিও একমত। আগামী ৪ঠা সেপ্টেম্বর কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।২০৪১ সালের আওয়ামী লীগের ভিশন বাস্তবায়ন করতে হলে আগামী ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আপনারা সু-সংগঠিত হয়ে কাজ করে যাবেন।

তিনি গতকাল সোমবার কচুয়া পৌরসভার মিসবাহ উদ্দীন খান সদনে উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

Model Hospital

কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চলবে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে। শর্ত দিয়ে কোন রাজনীতি হয় না। তাঁর আদর্শিক নির্দেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলে, আমার সেলিম মাহমুদের কথা নয়। আমি একজন অতি সাধারণ মানুষ। এ রাষ্ট্রের জনক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের চেতনার একটি জায়গা জননেত্রী শেখ হাসিনা। এখন আপনারা যদি শর্ত দেন তিন নেতা এক টেবিলে বসলে সমাধান হবে, আপনাদের আদর্শ আওয়ামী লীগের উপর নির্ভরশীল নয়। আপনারা ব্যক্তি বিশেষের উপর নির্ভরশীল। কচুয়ার অভিভাবক ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর আমার পিতৃতুল্য। তিনি কচুয়াকে দেশ বিদেশে সম্মানিত করেছেন। যারা বিশৃংখলা করে তারা আওয়ামী লীগের শত্রু।

বর্ধিত সভার উদ্বোধন করেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দীন আহমেদ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য গঠিত সাংগঠনিক টিমের প্রধান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আঃ রশিদ প্রধান, সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জহিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহির হোসেন পাটওয়ারী, দপ্তর সম্পাদক শাহআলম মিয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক একেএম মোতালেব হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বর্ধিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কচুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির, ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা খানম ও মাহবুব আলম, পৌর মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কামরুন্নাহার ভূইয়া ও হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান স¤্রাট, দুলাল প্রধান ও জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আঃ জব্বার বাহার, বাতেন সরকার, জিয়াউর রহমান হাতেম, উপদেষ্টা প্রাণধন দেব, ফনি ভূষণ মজুমদারসহ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতার হোসেন সোহেল ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আজীজ শাহীনসহ ১২টি ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।

তাছাড়া বর্ধিত সভার শুরুতে কচুয়া উপজেলা আ. লীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়।

আহতরা হলেন, কচুয়া থানার পুলিশ সদস্য মো. রাসেল, দৈনিক আমাদের অর্থনীতির কচুয়া প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. ইউনুছ, কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন সবুজ, সদর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য কার্তিক চন্দ্র রায়, কচুয়া পৌর ছাত্রলীগ নেতা ফারদিন ফাহিম, চাঁপই শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সজিব, ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, সজিব হোসেন, নাজমুল হোসেন, অনিক, মানিক, নাসিম, মো. রাসেল, মহিউদ্দীন, কবির। এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় সজিব হোসেনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অনান্য আহতরা কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সিটি ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।

কচুয়ায় আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ড. সেলিম মাহমুদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও ড. সেলিম মাহমুদের সমর্থকরা সকালেই বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরে। এসময় সেলিম মাহমুদের সমর্থক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুর করে। পরে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি সমর্থিত উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহীম খলিল বাদলের ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান সৌদিয়া টাইলস ও সৌদিয়া হোটেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুযোর্গ বিষয়ক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম খোকার ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান মডার্ণ হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড ভাংচুর করে উশৃংখল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ এবং শাহরাস্তি থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। সংঘর্ষের পর চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায়, কচুয়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইযুব আলী পাটওয়ারী ও সাধারণ সম্পাদক সোহবার হোসেন সোহাগ চৌধুরী বলেন, স্থানীয় সাংসদ ও কেন্দ্রীয় নেতা এবং জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে হলরুমে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে বর্ধিত সভা সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি বিশ^রোড এলাকায় ও পার্টি অফিসের সংলগ্ন সড়কটিতে দু-একটি বিছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মহিউদ্দিন জানান, অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে সংঘর্ষস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।