সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মতলবের খর্গপুরে জোরর্পূবক জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০২২, ১১:২০ এম
মতলবের খর্গপুরে জোরর্পূবক জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে নিজ মালিকানা জায়গা জোরর্পূবক দখলে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দিয়ে হয়রানিরও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনা নিয়ে বর্তমানে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের আশংকা করছে এলাকাবাসী। এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উল্টো প্রতিপক্ষ মনির হোসেন বাদী হয়ে চাঁদপুর আদালতে ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম গংদের বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকি ও নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করেন।

জানা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলার ২নং নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের ১১৬নং খর্গপুর মৌজায় ৫০৭ নং বিএস খতিয়ানভূক্ত এবং ৭৭৫ নং হাল দাগে মোট ৬০ শতাংশ জমির ওয়ারিশসূত্রে মালিক হন নুর মিয়া, রহিম বকস্, শাহআলম, খোরশেদ আলম, সিরাজ মিয়া, বজলুর রহমান ও মানিক মিয়া গং। ওয়ারিশসূত্রে মালিক হওয়ার পর মো. শাহআলম ও খোরশেদ আলম ২০০৬ সালের ২০ আগষ্ট ১৫ শতাংশ জমি সাব কবলা দলিল মূলে খর্গপুর এলাকার মো. নজরুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। যার দলিল নং ২৬৭৭। ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি একই মৌজায় ও একই দাগ খতিয়ানে ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হয়ে ১০ শতাংশ জমি সাব কবলা দলিল মূলে মো. নজরুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন অন্য ওয়ারিশ সিরাজ, ইলিয়াছ ও মাকসুদা। যার দলিল নং ৩৪৪। অপর দিকে একই দাগ খতিয়ানে ওয়ারিশসূত্রে মালিক হয়ে ২০০২ সালে ৫ শতাংশ জমি সাব কবলা দলিল মূলে একই এলাকার মো. নাছির উদ্দিনের নিকট বিক্রি করেন মো. মানিক মিয়া। এর পর ২০২১ সালের ২৩ মার্চ ভায়া দলিল মূলে উক্ত জমি খর্গপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মো. দুলাল ও সাইফুল ইসলামের নিকট বিক্রি করেন নাছির উদ্দিন। যার দলিল নং ১৩১৭। প্রত্যেক দলিলের চৌহদ্দি উত্তরে-অলি উল্লা, দক্ষিণে-সরকারি রাস্তা, পূর্বে-গ্রহিতা নিজ এবং পশ্চিমে-লনী মিয়া দেখানো হয়।

এরই মধ্যে উক্ত দাগের বাকী জমির ১৫ শতাংশ রহিম বকস্ তার ছেলে মো. মনির হোসেনকে হেবা ঘোষণা দলিল মূলে দান করেন ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর। যার চৌহদ্দিতে উত্তরে দাতার বাকী অংশ, দক্ষিণে সরকারি রাস্তা, পূর্বে মো. মমিন এবং পশ্চিমে মো. নজরুল দেখানো হয়।

উক্ত দাগের অপর ওয়ারিশ মো. জাহাঙ্গীর আলম, মজিবুর রহমান, মো. নাছির উদ্দিন, ফয়েজ আহম্মেদ, নার্গিস আক্তার ও জীবনা বেগম ১৫ শতাংশ জমি সাব কবলা দলিল করে ২০০৬ সালের ২০ এপ্রিল বিক্রি করেন রাশিদা বেগমের কাছে। যার চৌহদ্দি উত্তরে অলি উল্লা, দক্ষিণে রাস্তা, পূর্বে রহিম বকস্ গং এবং পশ্চিমে লনী মিয়া গং দেখানো হয়। রাশিদা বেগম উক্ত সম্পত্তি ২০২২ সালের ১০ মে পুনরায় যখন দানপত্র দলিল করে খর্গপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়াজীকে দেন। এরপর থেকেই বাধে যত জটলা। আনোয়ার মিয়াজী উক্ত জমির চৌহদ্দি দেন উত্তরে অলি উল্লা গং, দক্ষিণে সরকারি রাস্তা, পূর্বে মো. দুলাল গং এবং পশ্চিমে দুলাল ও রবিন। এনিয়েই বাধে সব জটিলতা। এরপর থেকেই উক্ত জমি দখলের চেষ্টা চালায় আনোয়ার মিয়াজী ও তার ভাই মনির হোসেন গংরা।

Model Hospital

এদিকে নজরুল ইসলামের ভাগিনা আব্দুল মালেক (মালু) জানায়, আমার মামার দখলীয় জায়গায় গত প্রায় ৩ মাস পূর্বে মাটি ভরাট করতে গেলে প্রতিপক্ষ মনির হোসেন গং বাধাঁ প্রদান করে মতলব দক্ষিণ থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মতলব দক্ষিণ থানায় স্থানীয় শালিসীগনের উপস্থিতিতে শালিসী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মনির হোসেন গং সময় চেয়ে বৈঠক থেকে চলে আসেন। পরবর্তীতে দুই পক্ষের সমন্বয়ে আবারও চাঁদপুর কোর্টে দুইজন বিজ্ঞ আইনজীবি নিয়ে পুনরায় সমোঝতা বৈঠক হয়। সেখানেও মনির হোসেন গং সময় চেয়ে ওই বৈঠক থেকে চলে আসেন। সর্বশেষ নিজ এলাকায় স্থানীয় শালিসীদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই ধারায় সেখান থেকেও সময় নিয়ে পরবর্তীতে চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে গিয়ে মনির হোসেন বাদী হয়ে একটি নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করেন। যার মোকাদ্দমা নং ৮১৩। বর্তমানে মনির হোসেন চাঁদপুর আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ভুক্তভোগি পরিবারের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান মালেক।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, যে জায়গাটি নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। সেই জায়গাটি সঠিক নিয়মে দীর্ঘদিন যাবত ভোগদখল করে আসছেন নজরুল ইসলাম গং। কিন্তু মনির হোসেন গং একই দাগ খতিয়ানের অবশিষ্ট অংশের জায়গা সর্বশেষ দলিলে ক্রয় করার পর চৌহদ্দি জটিলতা তৈরি করে জোরপূর্বক জায়গা দখলের চেষ্টা করছেন। এই বিষয় নিয়ে একাধিক শালিসি বৈঠক হয়েছে। কিন্তু মনির হোসেন গং তা প্রত্যাক্ষান করে আদালতে গিয়ে শুধু শুধু একটি মামলা দায়ের করে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করছে।

নজরুল ইসলামের স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, যে জায়গাটি নিয়ে ঝামেলা সেই জায়গাটি মূলত আমার স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি। আমার স্বামী যাদের কাছ থেকে দলিল মূলে মালিক হয়েছে তারাও আমার স্বামীর ওয়ারিশ। কিন্তু মনির হোসেন গং একই দাগ খতিয়ানে অন্য ওয়ারিশের কাছ থেকে তাদের অংশ ক্রয় করে চৌহদ্দি জটিলতা তৈরি করে এখন আমাদেরকে হয়রানি করছে। তিনি আরও জানান, উক্ত বিরোধীয় জায়গা দখল-বেদখল করা নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মরিয়ম বেগম।

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ মনির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি। আদালত যা রায় দিবে আমি তা মেনে নিবো।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।