সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

কৃতি কুঞ্জ তিয়া শিশু পার্কে অসামাজিক কার্যকলাপ; প্রতারণার ক্ষোভে স্কুল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২, ৬:২৪ পিএম
কৃতি কুঞ্জ তিয়া শিশু পার্কে অসামাজিক কার্যকলাপ; প্রতারণার ক্ষোভে স্কুল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সদর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থিত কৃতি কুঞ্জ তিয়া শিশু পার্ক এর সামনে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে এম এম নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর এক ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার সময় চাঁদপুরগামী বোগদাদ বাসের নিচে আত্মহত্যার চেষ্টা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আখতারুজ্জামান পাটওয়ারী ও এম এম নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার এম এম নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ইকরাম হোসেন গোপনে একই ক্লাশের দুই ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে আসছে। ঘটনার দিন ইকরাম হোসেন মানবিক বিভাগের ছাত্রী মরিয়ম আক্তারকে নিয়ে শিশু তিয়া কৃতিকুঞ্জ পার্কে ঘুরতে আসে। এই ছাত্রী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেও শিক্ষকদের না জানিয়ে ঘুরতে চলে আসে। ক্লাসে তাকে দেখতে না পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগের আরেক ছাত্রী ইশরাত জাহান বিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়ে সন্দেহজনকভাবে সে এ পার্কে এসে দেখে তারা দুজনে পাশাপাশি বসে কথা বলছে।
ইশরাত জাহান তখন তাদের সামনে গিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তার সাথে থাকা ব্যাগটি পার্কের গেইটের সামনে ছুঁড়ে ফেলে কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা বোগদাদ বাসের নিচে ঝাঁপ দেয়ার প্রস্তুতি নেয়। এমন সময় আরিফুর রহমান সুজন নামে এক পথচারী বোগদাদ বাসটিকে থামানোর জন্য চেষ্টা করেন এবং ঐ ছাত্র দৌড়ে এসে মেয়েটিকে টান দিয়ে সড়কের পাশে লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশদের খবর দিলে তিন ছাত্র ছাত্রীকে পরিষদে নিয়ে গেলে তাদের অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এনে মুচলেকা স্বাপেক্ষে অভিভাবকদের কাছে তিনজনকেই হস্তান্তর করেন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী। ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, তিনজনই অনেক ছোট। তারা আবেগের বশত ভুল করে ফেলেছে। তাই ভবিষ্যতে এমন ভুল না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের কাছে তাদের তুলে দিয়েছি।
উক্ত ঘটনার তথ্য যাচাই করতে সেই কৃতি কুঞ্জ তিয়া শিশু পার্কে গিয়ে জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের সাথে ক্ষুব্ধ হয়ে অশোভ আচরণ করেন এবং এদিন ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে ম্যানেজার বলেন, পার্কের ভিতরে এমন কিছুই ঘটেনি। যা হয়েছে পার্কের বাহিরে হয়েছে। এ সময়ে পার্কের মধ্যে কি ঘটেছিল তা পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে দেখতে চাইলে সিসি ক্যামেরা অকেজো বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পার্কের ম্যানেজার এসময় সাংবাদিকদেরকে দেয়া তথ্য মতে ১১টি সিসি ক্যামেরার মধ্যে ৭টি সচল রয়েছে। কিন্তু ঘটনার সময় ভিডিও ফুটেজ চাইলে বলেন এখন দেখানো যাবে না। মেশিন বিকল হয়ে গেছে। আগামী ২০ তারিখ মেশিন এনে মেরামত করা হবে।
পার্কের ভিতরে স্কুল-কলেজ চলাকালীন শিক্ষার্থীদের প্রবেশের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বলেন, এসময় শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে পারবে না। অথচ ঘটনার দিন আত্মহত্যা করতে যাওয়া ছাত্রীর পড়নে স্কুলের স্কাপ ও ওড়না পড়িহিত ছিল। এদিকে পূর্বের কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে অসামাজিক কর্মকান্ডের সত্যতা যাচাই করতে প্রথমেই পার্কের ভিতরে সাংবাদিকরা ছেলে-মেয়ের জড়িয়ে থাকার ভিডিও চিত্র ধারন করে রাখেন। কিন্তু ম্যানেজারের কাছ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। সাংবাদিকরা তাদের ধারণকৃত ভিডিওর কথা বললে তিনি সংবাদকর্মীদের উপর চড়াও হয়ে ওঠেন এবং বিনা অনুমতিতে কেন তার পার্কের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে তার জবাব চান। পরবর্তীতে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান পাটওয়ারীর সাথেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বাকবিতন্ড হয়।

চাঁদপুরে সালিশের নামে হয়রানির অভিযোগে স্বপন মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৮ এম
চাঁদপুরে সালিশের নামে হয়রানির অভিযোগে স্বপন মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সদর উপজেলা বিএনপি। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে জমি-জমা সংক্রান্ত সালিশে জড়ানো এবং সালিশের নামে সাধারণ জনগণকে হয়রানির অভিযোগে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) তারিখের ওই পত্রে স্বাক্ষর করেছেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন ও সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী ঢালী।

পত্রে উল্লেখ করা হয়, জমি-জমা সংক্রান্ত দেনদরবার ও সালিশ বৈঠকে না জড়ানোর জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে চিঠির মাধ্যমে সব নেতাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। স্বপন মাহমুদকেও আগে চিঠি ও মৌখিকভাবে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, উপজেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বপন মাহমুদ ৪ অক্টোবর রাতে সালিশ বৈঠকের নামে সাধারণ জনগণকে হয়রানি করেছেন।

Model Hospital

এ অবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত অমান্য করার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।