শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পিআইও’র যোগসাজশে ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণে অনিয়ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০২২, ৪:৩৩ পিএম
পিআইও’র যোগসাজশে ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণে অনিয়ম

এস. এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন (বীর নিবাস) নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজশে নিজের ইচ্ছেমতো নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করছে বলে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারবর্গ অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৯৭ জন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে আবাসন (বীর নিবাস) নির্মাণের জন্য ১৪ কোটি ৩০ হাজার ৯৪৬ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। যার প্রতিটি ঘরের নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৮ টাকা। দরপত্র আহ্বান করা হলে উম্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৯টি ঘরের ঠিকাদার নির্বাচিত হন ফরিদগঞ্জ উপজেলার মেসার্স রতন পাটওয়ারী এন্টার প্রাইজ। যার প্রোপাইটার রতন পাটওয়ারী নিজেই।

জানা যায়, কার্যাদেশ পেয়ে গত ১লা আগষ্ট ২০২২ তারিখ থেকে ঘরের নির্মান কাজ শুরু করেন ওই ঠিকাদার। কিন্তু ঠিকাদার নির্মাণ কাজের নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের ইট, খোয়া ও কাদামিশ্রিত বালু ব্যবহার করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

Model Hospital

এছাড়াও নির্মাণ কাজে পরিমাণ মতো সিমেন্টও ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে জানান উপকারভোগীরা। এসব নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করতে নিষেধ করলে সাহেবগঞ্জ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত দুলা মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমানের সঙ্গে ঠিকাদারের চরম বাগবিতন্ডার সৃষ্টি হয় এবং মিজানুর রহমান নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।

এ বিষয়ে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা দুলা মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমা জানান, ঘর নির্মানের পুর্বে নিন্মমানের সামগ্রী আমার বাড়িতে পাঠানোর পরে আমি ঠিকাদারকে বলেছি এই নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে বাড়ির কাজ করা যাবে না। ঠিকাদার আমার কথায় কর্নপাত না করে ঘর নির্মান কাজ শুরু করে। তিনি আরো জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্মান কাজ পরিদর্শন করে নিন্মমানের সামগ্রী দেখেও তিনি ঠিকাদারকে কোন কিছুই না বলে চলে যায় এবং তারপরেও ঠিকাদার বারবার পচাঁ ইট, বালি ও কংক্রিট আমার বাড়িতে পাঠাতে থাকে, আমি তখন কাজ বন্ধ করে দেই।

উপকারভোগী প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আক্কাছের স্ত্রী আম্মাতের নেছা ও ছেলে মো. মাছুম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে আমরা অনেক খুশি। কিন্তু ঘর নির্মাণের শুরু থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে আসছেন। তারা আমাদের কোন কথাই শুনছেন না। নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করছেন।

তারা আরো বলেন, ঘরের ইট ভালো না, আর বালু দিয়েছে কাদা কাদা, লাল বালু দেয় নাই। আর রডতো দিয়েছে নামে মাত্র। সিমেন্টও ঠিকমতো দেয় না। আমরা নিষেধ করলেও তারা শুনছেন না। তাদের মনমতো কাজ করে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার রতন পাটওয়ারী বলেন, সিডিউল মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে। তবে ভাল ইটের সাথে কিছু খারাপ ইট যেতে পারে। সেগুলো রাজ মিস্ত্রিকে ঘরে লাগাতে নিষেধ করা হয়েছে। তিনি এহেন বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন না করতে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কুমিল্লা অঞ্চলের বিভাগীয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশ্রাফুল আলম বলেন, নিন্মমানের কোন সামগ্রী যদি ওই ঠিকাদার ব্যবহার করে থাকে, তাহলে তা ভেঙ্গে পুনরায় কাজ করতে হবে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাংসদের সাবেক কমান্ডার সহিদ উল্ল্যাহ তপাদার বলেন, সরকার এই উপজেলায় অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৯৭টি ঘর বরাদ্ধ দিয়েছে। ঘর নির্মানে সর্বোচ্চ বরাদ্ধ দেওয়ার পরেও ঠিকাদাররা যদি অনিয়ম করে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আসা করি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সু-নজরে আসবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদারকে একাধিকবার অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমুন নেছাকে অফিসে গিয়ে না পেয়ে, তার মোবাইলে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মানে অনিয়ম পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’