শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই; সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩:৫৭ পিএম
অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই; সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমান

এস. এম ইকবাল : ফরিদগঞ্জের রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ আয়োজিত চেয়ারম্যান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে উপজেলার রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা-হাসমত ডিগ্রি কলেজ মাঠে হাজারও দর্শকের উপস্থিতিতে উক্ত ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শরীফ হোসেন খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) নির্বাচনী আসনের সংসদ সদস্য সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, খেলাধুলার মূল কথা হলো প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করা। প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরী করে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্ব। খেলাধুলার সঙ্গে স্বাস্থ্য ও মনের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সুস্থ্ দেহ মানেই সুস্থ মন। খেলাধুলা জীবনকে করে সুন্দর, পরিশীলিত। তাছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পরিচিতি ও সম্মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা অতুলনীয়।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, খেলাধুলা দেশের জন্য একান্তভাবে প্রয়োজন। যতবেশি খেলাধুলার সঙ্গে আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে সম্পৃক্ত রাখতে পারবো তারা ততবেশী সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। চিন্তা-চেতনায়, মন-মননে অনেক বেশি শক্তিশালী, অনেক বেশি উন্নত হবে তারা এবং আমাদের সন্তানদের মাদকসহ সকল অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খাজে আহমেদ মজুমদার, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবু সুফিয়ান শাহীন, যুগ্ম আহবায়ক হেলাল উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ইসমাইল হোসেন পাটওয়ারী, গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাছান মিরাজ, আ’লীগ নেতা নজরুল ইসলাম সুমন, রফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী, আব্দুস ছাত্তার পাটওয়ারী, জানিবুল হক জুয়েল, মাজহারুল ইসলাম নিরু, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আল-আমিন পাটওয়ারী, সদস্য আল-আমিন রাজা ছাড়াও রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যবৃন্দ, উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন আ’লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খেলায় ট্রাইব্রেকারে রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড একাদশকে ৩নং ওয়ার্ডকে একাদশ পরাজিত করে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’