বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে মাদক কারবারি জয় বর্মন গ্রেফতার, পালিয়েছে সহপাঠি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৪:৪৬ পিএম
চাঁদপুরে মাদক কারবারি জয় বর্মন গ্রেফতার, পালিয়েছে সহপাঠি

বিশেষ প্রতিবেদক : চাঁদপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি ও সেবনকারী জয় বর্মন(২৪)কে জেলা গোয়েন্দা শাখা চাঁদপুর আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে। এ সময় তার সাথে থাকা অপর বন্ধু পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে, বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা অনুমান ৬টায় দিকে ৭০পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জয় বর্মন(২৪)কে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রফতার হওয়া জয় বর্মন(২৪),তার বন্ধু আরাফাত খান ওরফে সানি (২৪), এর পূর্বে গত বছরের রোববার (১১ জুলাই) ২০২১ সালে রাত ৯টার দিকে চাঁদপুর রেলওয়ে কোর্ট স্টেশন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা কালে চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হয় জয় বর্মণ (২২) ও আরাফাত খান ওরফে সানি (২৪) নামে দুই মাদকসেবী।

ওই সময় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সিফাত তাদেরকে তাৎক্ষনিক ৬ মাস ও ৩ মাস করে কারাদন্ড দিয়ে ছিল ভ্রাম্যমান আদালতে। এ ২ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবককারী আদালতের নির্দেশে সাজা খেটে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে পুরনায় আবার তাদের পুরাতন ব্যবসা শুরু করে। এ যাত্রায় পূর্বের ২ বন্ধুর মধ্যে একজন অভিযানের সময় পালিয়ে যায় বলে গ্রেফতার হয়নি।

জানা গেছে,চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ এনামূল হক চাঁদপুরের দিক নির্দেশনায় উপ-পরিদর্শক (এসআই,নিরস্ত্র) মাজহারুল হক ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ মাদক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করাকালে চাঁদপুর শহরের সদর মডেল থানাধীন বড় ষ্টেশন সড়কের ১৪নাম্বার কোয়াটার এলাকার রেলওয়ে শিশু বিদ্যালয়ের সামনে পাকা রাস্তার উপর থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী জয় বর্মনকে ৭০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। সে চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে কোর্টস্টেশন এলাকার জয় টেলিকোম নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে তার অন্তরালে এভাবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার-ভৈরব উপজেলার, রাম শংকরপুর এলাকার ১২নং ওয়ার্ডের তার পিতা মৃত খোকন চন্দ্র বর্মন ও মাতা-শীলা রানী বর্মনের ছোট ছেলে।

Model Hospital

সে বর্তমানে চাঁদপুর জেলা শহরের- চাঁদপুর পৌরসভার শহীদ জাবেদ সড়কস্থ ম্যাচ ফ্যাক্টরী, ১০নং পৌর ওয়ার্ড এলাকার শাহানারা আক্তার শানুর বাড়ীর ভাড়াটিয়া। এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার পক্ষ থেকে আসামীর বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২১ সালের রিপোটটি কি ছিল তা’পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো: চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান কালে গতবছর আটক জয় বর্মণ (২২) ও আরাফাত খান ওরফে সানি (২৪) নামে দুই মাদকসেবী। তাদেরকে ৬ মাস ও ৩ মাস করে কারাদন্ড দিয়েছিল ভ্রাম্যমান আদালত।

গতবছর ২০২১ সালের রোববার (১১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে চাঁদপুর রেলওয়ে কোর্ট স্টেশনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সিফাত।

কারাদন্ডপ্রাপ্ত শহরের নিউ ট্রাকরোড ম্যাচ ফ্যাক্টরী এলাকার খোকন বর্মণের ছেলে এবং আরাফাত শহরের জেটিসি শ্রমিক কলোনীর আরব খানের ছেলে।

চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, বৈশ্বিক মহামারিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রাত ৯টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় এর উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সিফাত ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক একেএম দিদারুল আলম এবং সশস্ত্র আনসার ব্যাটালিয়ন এর নেতৃত্বে গঠিত রেডিং টীম শহরের কালিবাড়ি রেলওয়ে প্লাটফরমের উপর জয় টেলিকোম সেন্টার থেকে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় মাদকসেবী জয় বর্মণ ও মোঃ আরাফাত খানকে ৫ গ্রাম গাঁজা ও ২পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়। সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালতে গ্রেপ্তারকৃত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে যথাক্রমে দু’টি মামলা রুজু করে ৬মাস ও ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং ২০০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। মাদকবিরোধী এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বলা হয়েছিল।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।