শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ বিনষ্ট করতে পারবে না; প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২:৫০ পিএম
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ বিনষ্ট করতে পারবে না; প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম

মনিরুল ইসলাম মনির : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে হিন্দু, মুসলমানসহ সকল ধর্ম গোত্রের মানুষ অসাম্প্রদায়িক একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সবাই একসাথে সম্প্রীতির মাধ্যমে বসবাস করার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকল ধর্মের মানুষ ও সুধীজনদের অংশগ্রহণে সামাজিক সম্প্রীতি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম, এখানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের কোন স্থান নেই। ইসলামসহ সকল ধর্মে অপর ধর্মের প্রতি সম্মান দিতে শিখিয়েছে। একটি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হলে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করতে হবে। এক্ষেত্রে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। কেউ রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও সমাজে ধর্মীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা করলে পুলিশ জনগণকে সাথে নিয়ে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করবে।

ড. শামসুল আলম বলেন, ইসলাম একটি ধর্ম নিরপেক্ষতার ধর্ম। এবং সবচেয়ে বড় মহত্ত্বের ধর্ম। এই ধর্মে শুধুই শান্তির কথা বলা হয়েছে। নবী করিম (স.) হাদিসে স্পষ্টভাবে ইসলাম ধর্মের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ইসলাম ধর্মে জোর জবস্তি বা জবরদখলের কথা বলেনি।

Model Hospital

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি কেউ ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করে তাহলে সেটা অবশ্যই অসৎ উদ্দেশ্য। আওয়ামী লীগ এমনটা কখনোই করে না। আওয়ামী লীগ ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করেনি কখনো। যে যেই ধর্মই করেন না কেন সম্প্রতি বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব। বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ধর্মকে নোংরা কাজে ব্যবহার করে ফেসবুকে অপপ্রচার। এটা অবশ্যই এগুলো নোংরামি বলে আমি মনে করি। সুতরাং কেউ ফেক আইডি খুলে কেউ অপপ্রচার যাতে না করে, যেদিকে সবাই নজর রাখবেন। আসন্ন ধর্মীয় উৎসব গুলো যার যার মতে সঠিকভাবে পালন করবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এড.নুরুল আমিন রুহুল, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ কুদ্দুস।

বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. হেদায়েদ উল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার আবুল কালাম চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মিয়া মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, গজরা ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ উল্ল্যাহ প্রধান, উপজেলা হিন্দু খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রাধেশ্যাম সাহা চান্দু বাবু, পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস, মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম, মতলব উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব মমিনুল ইসলাম, উপজেলা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা এনামুল হক প্রমুখ।

সমাবেশে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধী সমাজের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ধর্মালম্বী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’