সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

বাণিজ্যিকভাবে ওলকচু চাষে লাভের স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২:৩৫ পিএম
বাণিজ্যিকভাবে ওলকচু চাষে লাভের স্বপ্ন

মনিরুল ইসলাম মনির : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কৃষিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ওলকচুর চাষাবাদ। উপজেলায় প্রথমবারের মতো উচ্চফলনশীল এ সবজি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের উদ্দমদী গ্রামের কৃষাণী নাছিমা বেগম। স্থানীয়ভাবে অনেকটা অপরিচিত এ সবজি থেকে দ্বিগুণ মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন এ সবজি চাষে কৃষককে নির্বাচিত করা হয়। পরে তাদের ওলচাষের পদ্ধতি ও চাষাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণের পর ২০ শতক করে জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের জন্য ‘ওলকচুর প্রদর্শনী’ হিসেবে বীজ, সার ও পরিচর্যার জন্য খরচ প্রদান করা হয়। মাদ্রাজি ওলকচু জাতের এসব বীজ খুলনা থেকে নিয়ে আসা হয়। এসব বীজ এপ্রিল মাসের শেষের দিকে রোপণ করা হয়েছিল। যা চলতি মাসে উত্তোলন করা হবে। এ উপজেলায় কান্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাদ্রাজী ওলকচু’র ৩টি প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের উদ্দমদী গ্রামে নাছিমা বেগম ওলকচু ক্ষেতে দেখা যায়, ২০ শতক উঁচু জায়গার ওপর ওলকচু চাষ করেছেন তিনি। নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে, বেড়ে উঠছে সারি সারি সবুজ ওলগাছ। কয়েকটি শাখায় বিভক্ত হয়ে পাতাগুলোকে দু’দিকে সাজিয়েছে গাছগুলো। এ সময় গাছের পরিচর্যা করছিলেন কৃষক জাকির হোসেন।

তিনি জানান, প্রতিটা গাছে ৭ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। আবহাওয়া ও পরিচর্যা ভালো হওয়ায় এ জমি থেকে ১৫০-২০০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যেতে পারে। বাজারে প্রতি কেজি ওলকচুর দাম ৪০-৫০ টাকা। সে হিসাবে খরচ বাদে ৮০-৯০ হাজার টাকা মুনাফা করার স্বপ্ন রয়েছে তার।

Model Hospital

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালউদ্দিন বলেন, সব অঞ্চলেই উঁচু জমিতে ওলকচু চাষ করা যায়। বর্তমানে বাজারে দাম ও চাহিদা ভালো থাকায় বাণিজ্যিকভাবে ওলচাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। এই ওল চাষ সম্প্রসারণে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধকরণের চেষ্টা করছি ও নানাভাবে পরামর্শ দিচ্ছি। কান্দাল ফসল হিসেবে ওলকচুর চাষ মতলব উত্তরে কৃষিতে নতুন সম্ভবনাময় ফসল এবং আগামীতে এ ফসলের চাষাবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।