শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর সভাপতির হামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২২, ৩:১৩ পিএম
মতলবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর সভাপতির হামলা
মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তর উপজেলার রসুলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির খান এর বিরুদ্ধে এসএমসি’র সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিন জামান গেলো কয়েকদিন আগে মানববন্ধন করে। ১২ অক্টোবরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির খান বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীদের নিয়ে পাল্টা মানববন্ধন করে।

উভয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম ৩ নভেম্বর বিদ্যালয়ে তদন্ত করতে আসে। এসময় এসএমসি’র সভাপতি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে একপর্যায়ে এসএমসি’র সভাপতি মহিউদ্দিম জামান এর সমর্থিত মানিক কাজী, রতন কাজী, জাকির হোসেন মিন্টু, বাতেন পাটোয়ারী, নজরুল কাজী ও সেলিম শিকদারসহ আরো অনেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির খান ও তার পরিবারের ওপর হামলা করে। এতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এগিয়ে আসলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় হুমায়ুন কবির খান কে  মতলব উত্তর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর শুনে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে তখন সভাপতি ব্যাতিত সকলে পালিয়ে যায়। সভাপতির কাছে উক্ত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি কথা না বলে সুযোগ বুঝে সকলের সামনে তিনিও দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এস আই রমিজ তাকে ধরে এনে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে রেখে বিকেলে উভয়পক্ষকে থানায় হাজির হওয়ার জন্য বলে যান।

Model Hospital

অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বলে তদন্ত স্থগিত করে তদন্ত কমিটি পরবর্তী কার্যদিবসে পরবর্তী তদন্তের সময় জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে যান।

এই ঘটনায় বিদ্যালয়ে অধ্যানরত শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অভিভাবকরা নিজেদের সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এলাকাবাসী এসএমসি’র সভাপতি ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য জোড় দাবি জানাচ্ছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’