শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে নারী কাউন্সিলর মিনু আক্তারের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২২, ৫:১৪ পিএম
হাজীগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে নারী কাউন্সিলর মিনু আক্তারের সংবাদ সম্মেলন

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আসম মাহবুব উল আলম লিপন ও কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মিনু আক্তার এবং তার পরিবার। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

আনিত লিখিত অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করে তিনি মিনু আক্তার বলেন, আমি ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত কাউন্সিলর। আমি গত ৩১ তারিখে আমার ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট করেছিলাম, অনেকে সেই পোস্ট নিয়ে অনেক মন্তব্য করেছেন। আল্লাহর কসম করে বলছি আমি যা বলছি সব সত্য, আমাদের হাজীগঞ্জ বাসি অনেকে জানেন সন্ধার পরে পৌরসভার মেয়র মদ নেশা নিয়ে ব্যস্থ থাকেন।

এমনকি প্রায় সময় দিনের বেলাতেও পৌরসভা কার্যালয়ে নিজ কক্ষে তিনি নেশাগ্রস্থ অবস্থায় থাকেন যাহা হাজীগঞ্জ পৌরসবাসী জানেন।
তিনি বলেন, আমি এই নেশাগ্রস্ত মেয়রের হাত থেকে যৌন হেনস্থা এবং আমার ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে আজকে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। গত ০৩/০৮/২০১২ইং তারিখে আমি পৌরসভায় গেলে মেয়র তার পৌরসভার পার্সোনাল রুমে আমাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আমাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। আমি কৌশলে আমার ইজ্জত রক্ষা করে বের হয়ে এসেছি। এই ঘটনা কেন্দ্র করে সব কাউন্সিলরগণ নিয়ে বৈঠক পর্যন্ত হয়েছে। তারপরও ২২/০৮/১-২২ইং তারিখে ৭নং ওয়ার্ড মনির কাজীকে দিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে মেয়র।

বিভিন্ন সময় দেওয়া ওনার কুপ্রস্তাবে আমি রাজি না হওয়ায় উনি আমাকে পৌরসভার কোন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন না এবং আমাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রতিনিয় তার ফলশ্রুতিতে তিনি আমাকে পৌরসভার মাসিক তিনটির ভিতরে দুইটি মিটিংয়ে উপস্থিত থাকলেও হাজিরায় স্বাক্ষর করতে দেয়নি।

Model Hospital

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ ৩১/১০/২০২২ তারিখে আমি মাসিক মিটিংয়ে উপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে দেননি আমি যে মিটিংয়ে উপস্থিত হয়েছি তা পৌরসভার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখলেই প্রমাণ মিলবে, এমনকি ওনার আস্তাভাজন বিভিন্ন কাউন্সিলর দিয়ে আমাকেও হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি আমি যদি ওনার কথা মতো না চলি তাহলে আমাকে কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত করবেন। উনি যে আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে ইজ্জত হানির চেষ্টা করেছেন আমার সহকারী কাউন্সিলর ভাই ও বোন তারা সব কিছু জানতেন।

এই নিয়ে আমার সাথে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। আজ তারা এ সকল বিষয় নিয়ে মুখ খুলছেন না, আজ তারা ক্ষনিকের লোভ লালসায় পৌরসভার মাধ্যমে অসাধু উপায়ে মেয়রের ছত্রছায়া বিভিন্নভাবে টাকা রোজগার বা উপার্জন করছেন এবং উনার ক্ষমতার কারণে আমার সত্য কথাটাকেও তারা মিথ্যা বলে প্রচার করছেন আমাকে খারাপ বলে অপবাদ দিচ্ছেন, আর যদি এমন কোন ঘটনা আপনাদের মা বোনের সাথে হতো, তাহলে আপনারা কি করতেন, ক্ষমতা কোনদিন চিরস্থায়ী থাকে না আজ উনার ক্ষমতার কারণে তারা আমাকে মিথ্যাবাদী সাজিয়েছেন এর জন্য একদিন আপনারা আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য, মাননীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছে আমি বিনীত ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, আমাকে এই নেশাখোর মদখোর, হাত থেকে রক্ষা করুন, আপনাদের কাছে আমি নিরাপত্তা চাই আপনারা সঠিক ভাবে তদন্ত করিলে সব কিছু বেরিয়ে আসবে।

সবদিক থেকে যখন আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল তাই আমি নিরুপায় হয়ে গত ৩১/১০/২০২২ইং তারিখে আমার নিজ নামিও ফেসবুক আইডিতে একটি লাইভে সব কিছু পৌরসভা বাসিন্দার সামনে তুলে ধরি। ০১/১১/২০১২ইং রাতে মেয়রের কিছু সংখ্যা লোক এসে আমাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে যান। এরপর ০২/১১/২০১২ইং তারিখে মেয়র তার সঙ্গীদের দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে আমার সম্মানহীন করার চেষ্টা করে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিনু আক্তার বলেন, কাউন্সিলররা আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, আমি যাতে আর বাড়াবাড়ি না করি। কিন্তু মেয়র ক্ষমা চায়নি। আমাকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি কোর্টে অনেকবার গিয়েছি কিন্তু কোন আইনজীবী মামলা নেয়নি। আমি হাজীগঞ্জ থানায় গিয়েছি, সেখানকার দারোগা নাজিম আমাকে বলেছে, আপনার মামলা থানায় নিবে না। তারা যে মিছিল করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌসের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন মিনু আক্তারের স্বামী নূরে আলম। সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, শহীদ পাটওয়ারী, শরীফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, সোহেল রুশদী, মির্জা জাকির, এএইচএম আহসান উল্লাহ, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আল ইমরান শোভন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’