ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধে হামলা; থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

এস. এম ইকবাল : ভাইয়ের জুলুমের শিকার ভাই। পৈত্রিক সম্পত্তিতে দীর্ঘ সময় ধরে উপেক্ষিত আব্দুল লতিফ। আদালতের রায় পাওয়ার পরও নিজ ভূমিতে ঘর তুলতে বাঁধা দেয় বড় ভাই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে আহত হয় বড় ভাই আব্দুল মতিনের মেয়ে তানজিনা (২৭)।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মরহুম আব্দুল জলিল এর ৪ সন্তান। আব্দুল মতিন, আব্দুল লতিফ, নুর মিয়া ও মো. শহীদ।
সার্ভেয়ার, পঞ্চায়েত এবং চার ভাইয়ের স্বাক্ষর যুক্ত বন্টকনামা সূত্রে দেখা যায়, আব্দুল লতিফ দুই শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু আব্দুল মতিন তার ২য় ভাই আব্দুল লতিফকে তাদের প্রতিশ্রুতিকৃত স্থানে দিতে রাজি হচ্ছে না। অন্যদিকে বাকী দুই ভাই এটা নিয়ে বিরোধ করছে না। তারা আব্দুল লতিফকে পূর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উক্ত ভূমি দিতে রাজি কিন্তু তাদের সবার বড় ভাই রাজি হচ্ছে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক পঞ্চায়েত হয়। পঞ্চায়েত আব্দুল লতিফের পক্ষে রায় দিলে আব্দুল মতিন তা না মেনে আদালতে মামলা করে। আব্দুল লতিফের ভাষ্য অনুযায়ী আদালতের রায়ও তার পক্ষে যায়। তারপরও আব্দুল মতিন তার ভাইকে সেই জায়গাটিতে ঘর তুলতে দেয় না। দীর্ঘ সময় ধৈর্য্য ধরার পর, অবশেষে আব্দুল লতিফ গত ৫ নভেম্বর তার ভূমিতে ঘর তোলার উদ্দেশ্যে গাছ কাটতে গেলে তার বড় ভাই আব্দুল মতিন তার স্ত্রী, মেয়ে বাঁধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়এতে আব্দুল মতিনের মেয়ে  তানজিনা (২৭) গুরুতর আহত হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগ পত্রে দুই পক্ষের লোকই আহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আব্দুল লতিফ বলেন, পৈত্রিক সূত্রে আমি আমার ভিটাতে সব ভাইয়ের মতো ১১ শতাংশ পাই কিন্তু আমার বড় ভাই মাপার আগেই আমার সম্পত্তির উপর ঘর তুলে ফেলে। পরে পঞ্চায়েতরা সিদ্ধান্ত দেয় ঘর না ভেঙ্গে। রাস্তার পাশে যে ডোবা আছে সেখান দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করবে। আমি কষ্ট পেলেও সবার কথা মেনে নিয়েছি। কিন্তু এখন সেখানে আমি ঘর করতে গেলে বড় ভাই বাধা দেয়।’
এ বিষয়ে তার অপর দুই ভাই নূর মিয়া এবং শহীদ এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আমাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত ছিলো মেঝ ভাইয়ের যে দুই শতাংশ জায়গা কম আছে সেটা রাস্তার পাশে ডোবাতে দিবে কিন্তু বড় এখন সে কথা থেকে সরে গেছে। এটা নিয়েই জামেলা।
ঘটনার স্থানে গিয়ে আব্দুল মতিন, তার মেয়ে এবং স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আব্দুল মতিনের ছেলে নুরুন্নবীর স্ত্রী ফারজানা বেগম বলেন, ‘উনারা চাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমি বিস্তারিত জানি না। জায়গা জমি নিয়ে মারামারি হয়েছে। এতে আমার শ্বাশুড়ি এবং ননদ আঘাত পেয়েছে।’
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাব চাঁদপুরের আয়োজনে বাজার পরিস্থিতি ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক মত বিনিময় সভা

ফরিদগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধে হামলা; থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:০৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২
এস. এম ইকবাল : ভাইয়ের জুলুমের শিকার ভাই। পৈত্রিক সম্পত্তিতে দীর্ঘ সময় ধরে উপেক্ষিত আব্দুল লতিফ। আদালতের রায় পাওয়ার পরও নিজ ভূমিতে ঘর তুলতে বাঁধা দেয় বড় ভাই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে আহত হয় বড় ভাই আব্দুল মতিনের মেয়ে তানজিনা (২৭)।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মরহুম আব্দুল জলিল এর ৪ সন্তান। আব্দুল মতিন, আব্দুল লতিফ, নুর মিয়া ও মো. শহীদ।
সার্ভেয়ার, পঞ্চায়েত এবং চার ভাইয়ের স্বাক্ষর যুক্ত বন্টকনামা সূত্রে দেখা যায়, আব্দুল লতিফ দুই শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু আব্দুল মতিন তার ২য় ভাই আব্দুল লতিফকে তাদের প্রতিশ্রুতিকৃত স্থানে দিতে রাজি হচ্ছে না। অন্যদিকে বাকী দুই ভাই এটা নিয়ে বিরোধ করছে না। তারা আব্দুল লতিফকে পূর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উক্ত ভূমি দিতে রাজি কিন্তু তাদের সবার বড় ভাই রাজি হচ্ছে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক পঞ্চায়েত হয়। পঞ্চায়েত আব্দুল লতিফের পক্ষে রায় দিলে আব্দুল মতিন তা না মেনে আদালতে মামলা করে। আব্দুল লতিফের ভাষ্য অনুযায়ী আদালতের রায়ও তার পক্ষে যায়। তারপরও আব্দুল মতিন তার ভাইকে সেই জায়গাটিতে ঘর তুলতে দেয় না। দীর্ঘ সময় ধৈর্য্য ধরার পর, অবশেষে আব্দুল লতিফ গত ৫ নভেম্বর তার ভূমিতে ঘর তোলার উদ্দেশ্যে গাছ কাটতে গেলে তার বড় ভাই আব্দুল মতিন তার স্ত্রী, মেয়ে বাঁধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়এতে আব্দুল মতিনের মেয়ে  তানজিনা (২৭) গুরুতর আহত হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগ পত্রে দুই পক্ষের লোকই আহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আব্দুল লতিফ বলেন, পৈত্রিক সূত্রে আমি আমার ভিটাতে সব ভাইয়ের মতো ১১ শতাংশ পাই কিন্তু আমার বড় ভাই মাপার আগেই আমার সম্পত্তির উপর ঘর তুলে ফেলে। পরে পঞ্চায়েতরা সিদ্ধান্ত দেয় ঘর না ভেঙ্গে। রাস্তার পাশে যে ডোবা আছে সেখান দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করবে। আমি কষ্ট পেলেও সবার কথা মেনে নিয়েছি। কিন্তু এখন সেখানে আমি ঘর করতে গেলে বড় ভাই বাধা দেয়।’
এ বিষয়ে তার অপর দুই ভাই নূর মিয়া এবং শহীদ এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আমাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত ছিলো মেঝ ভাইয়ের যে দুই শতাংশ জায়গা কম আছে সেটা রাস্তার পাশে ডোবাতে দিবে কিন্তু বড় এখন সে কথা থেকে সরে গেছে। এটা নিয়েই জামেলা।
ঘটনার স্থানে গিয়ে আব্দুল মতিন, তার মেয়ে এবং স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আব্দুল মতিনের ছেলে নুরুন্নবীর স্ত্রী ফারজানা বেগম বলেন, ‘উনারা চাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমি বিস্তারিত জানি না। জায়গা জমি নিয়ে মারামারি হয়েছে। এতে আমার শ্বাশুড়ি এবং ননদ আঘাত পেয়েছে।’