শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে প্রতিপক্ষকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে শিক্ষক কারাগারে 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ৩:৫২ পিএম
মতলব দক্ষিণে প্রতিপক্ষকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে শিক্ষক কারাগারে 

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী (৫০) নামে এক প্রাথমিকের শিক্ষক কারাগারে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দেলদিয়া গ্রামে।

হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী উপজেলার চরপয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সে দেলদিয়া গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির মমতাজ উদ্দিন পাটোয়ারীর ছেলে।

ঘটনার শিকার আবুল বাশার পাটোয়ারী হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীর চাচাতো ভাই। তাঁর বাবার নাম মিয়া রাজা পাটোয়ারী।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীর সঙ্গে বিদেশ ফেরত তাঁর চাচাতো ভাই আবুল বাশার পাটোয়ারীর সাথে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জেরে গতকাল রোববার গভীর রাতে আবুল বাশার পাটোয়ারীকে ফাঁসানোর জন্য কৌশলে তাঁর বসত ঘরের খাটের নিচে ৪০ পিস ইয়াবা বড়ি রেখে আসে হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী।

Model Hospital

তিনি আবুল বাশার পাটোয়ারীর ঘরে ইয়াবা বড়ি আছে জানিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ওই বসতঘর থেকে ৪০ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের দুজনকেই থানায় নিয়ে আসে।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, থানায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ আসল ঘটনা জানতে পারে। শিক্ষক হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীও জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশকে তাঁর চাচাতো ভাইকে (আবুল বাশার) ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশ বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাঁকে। অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আবুল বাশারকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আবুল বাশার পাটোয়ারী অভিযোগ করে বলেন, একজন শিক্ষক হয়েও তাঁর ওই চাচাতো ভাই তাকে ফাঁসানোর জন্য তাঁর ঘরে ইয়াবা রেখে দেন। এটি একটি ঘৃণ্য কাজ। জমির বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। কারাগারে থাকায় হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আটক ওই শিক্ষককে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। আজ বিকেলে চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’