বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘরে চাল নেই রান্না হয়নি, স্ত্রী-সন্তানরা না খেয়ে, দিশেহারা বাবা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৩, ২:০৪ পিএম
ঘরে চাল নেই রান্না হয়নি, স্ত্রী-সন্তানরা না খেয়ে, দিশেহারা বাবা

মতলব উত্তর ব্যুরো : ঘরে চাল না থাকায় কয়েকদিন রান্না হয়নি। সন্তানেরা আছে না খেয়ে। স্ত্রীর কাছে এমন কথা শুনে দিশেহারা অসুস্থ বাবা।

মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েও কাজ হচ্ছেনা। ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও একমুঠো চাল পাননি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের রঙ্গুখাঁ কান্দির অসুস্থ মো. কাশেম। তিনি সোমবার সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন তার অসহাত্বের কথা। পায়ে টিউমার ও শরীরের বিভিন্ন রোগ বালাই থাকায় দিনমজুরের কাজও করতে পারছেন না তিনি।

ভাঙ্গাচোড়া টিনের দু’চালা বসত ঘর। কনকনের এ শীতের মধ্যে ঘরে থাকতেও কষ্ট হচ্ছে কম্বলহীন এ পরিবারের। দিনমজুর বাবার চোখেমুখে তখন অসহাত্বের ছাপ। সন্তানরা একে অপরের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে সবাই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মো. কাশেম ৩ কন্যা ও ১ ছেলে সন্তানের পিতা। স্ত্রী হাজেরা বেগমও খেযে না খেয়ে রুগ্ন হযে পড়েছে। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে অভাবের কারণে। দ্বিতীয় মেয়ে শিরিনও প্রতিবন্ধী, তৃতীয় মেয়ে ফারজানা ৭ম শ্রেণীতে ও একমাত্র ছেলে আরিফ ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে লেখাপড়া করেন শরীফ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে।

Model Hospital

মো. কাশেম বলেন, আমার পায়ে টিউমার থাকায় বসে কাজ করতে পারিনা। চাহিদানুযায়ী কাজ করতে না পারায় কেউ কাজেও নেয় না। খাদ্যের অভাবে স্ত্রী সন্তানদে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও কোন লাভ হয়নি। এ শীতের কেউ একটি কম্বলও দেয়নি আমকে।

মো. কাশেম বেপারীর স্ত্রী হাজেরা বেগম জানান, অভাব অনটনের মধ্যে চলছে জীবন। কাল (রবিবার) একজরে আধা সের চিড়া দিয়েছিল, তা সবাই মিলে খাইছি।

ওই গ্রামের শহীদ উল্লাগ সরকার, রফিকুল ইসলাম, ইমান হোসেন জানান, আমরা যথাসাধ্য সহায়তা করছি। এ গ্রামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র এ কাশেম। অনেক কষ্টে আছে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে।

প্রতিবেশী নাছিমা বেগম ও রাজিব খাঁ জানান, বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সহায়তা এনে কোনমতে চলছে কাশে বেপারীর সংসার। সকলের সহায়তা পেলে বেঁচে যেতে পারে এ অসহায় পরিবারটি।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।