বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩, ৩:৪৯ পিএম
চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির ২০২৩ সালের ১ম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এস.এম. জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার থেকে যেনো অসহায়, অস্বচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন গরিব মানুষগুলো বঞ্চিত না হয় সে জন্যই সরকার লিগ্যাল এইড কমিটি তথা জাতীয় আইনগত সহায়তা কমিটি গঠন করেছে। সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রমের একটি অংশ লিগ্যাল এইড। অস্বচ্ছল বিচার প্রত্যাশীদের বন্ধু হচ্ছে সরকার-এটাই লিগ্যাল এইডের মূলমন্ত্র। সরকারি এ উদ্যোগে লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবীরা অস্বচ্ছল বিচারপ্রত্যাশীদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। এ কাজের সাথে জড়িত প্যানেল আইনজীবীরা অনেক আন্তরিক। তাঁরা নামমাত্র সরকারি ফিতে আইনগত সহায়তা দিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলায় আমাদের লিগ্যাল এইডের পক্ষ থেকে প্রোগ্রাম করা হয়েছে। তার ফলও পাওয়া যাচ্ছে। তবে আরো বেশি প্রত্যাশা করছি। এবার চেষ্টা করবো এই কমিটির পক্ষ থেকে চাঁদপুর জেলার বাকি উপজেলাগুলোতে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করা।
জেলা ও দায়রা জজ বলেন, সারা জেলার তৃণমূল থেকে জনপ্রতিনিধিদের লিগ্যাল এইডের সাথে সম্পৃক্ত করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। যাতে করে প্রত্যন্ত এলাকার গরিব, অসহায়-অস্বচ্ছল মানুষগুলো বিনা খরচে সরকারিভাবে আইনী সহায়তা পায়। এ বিষয়ে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রত্যেকেই যে যেই পেশায়, যে যেই অবস্থানে আছি, প্রত্যেকেরই স্ব স্ব অবস্থান থেকে সমাজের জন্যে সেবার মানসিকতা নিয়ে কিছু করার সুযোগ আছে। আমরা যেনো তা করি।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মোঃ সাকিব হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সামছুল ইসলাম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কামাল হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ ইয়াসির আরাফাত, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুননাহার চৌধুরী, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডঃ এ.টি.এম. মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ এ.জেড.এম. রফিকুল হাসান রিপন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এএইচএম আহসান উল্লাহ, চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেলার মুনীর হোসাইন, জেলা আইনজীবী সমিতির সদ্য বিদায়ী সভাপতি অ্যাডঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ, সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

Model Hospital

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।