বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে ডাকাত আতঙ্কে এলাকাবাসির নির্ঘুম রাত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৪:২২ পিএম
মতলব উত্তরে ডাকাত আতঙ্কে এলাকাবাসির নির্ঘুম রাত

মনিরুল ইসলাম মনির: মতলব উত্তরে হঠাৎ করে শনিবার মধ্য রাতে ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কেটেছে এলাকাবাসির । পাড়া মহল্লায় মানুষের সরগরম, ডাক চিৎকার, মসজিদে মসজিদে মাইকিং গভীর ঘুম থেকে জেগে ওঠে সাধারণ মানুষ। ঘুম থেকে জেগেই মসজিদের মাইকে শোনতে পারে এলাকায় ডাকাত পড়তে পারে সবাই সজাগ সতর্ক থাকুন। এরপর থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।

জানা যায়, মতলব উত্তরে গত ২দিন ধরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে উপজেলায় ডাকাত আতঙ্ক শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে শনিবার মধ্য রাতে মানুষের ডাক চিৎকার, মসজিদে মসজিদে ডাকাত আতঙ্কের মাইকিং এ ঘুম ভাঙে মানুষের। মসজিদের মাইকিংএ পাড়া মহল্লায় রাস্তাঘাটে নেমে পড়ে দল বেধে পাহারা। এতে মানুষের মধ্য ভয় উৎকন্ঠতা দেখা দিয়েছে। তবে সুর্নিদিষ্ট করে কেউই বলতে পারেনি উপজেলায় কোথাও কোন ডাকাতির খবর।
এদিকে জানমাল নিয়ে ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে বিশেষকরে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের। পুলিশ বিষয়টি আচ করতে পেরে মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে জোরদার করছে তাদের টহল। তবে বিষয়টিকে কেউ কেউ গুজব মনে করে যে যার মত বলে বেড়াচ্ছেন।

উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউপির চেয়ারম্যান ইঞ্জি. রেজাউল করিম বলেন, সবাই বলে ডাকাত ডাকাত। আমি দেখিনি শুনি ডাকাত। তিনি বলেন, কোন পক্ষ নাশকতা সৃষ্টির জন্য হয়তো এরকম কিছু করতে পারে। তারাতো সর্বদা দেশে অস্তিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে তৎপর। তবে তাদের স্বার্থ হাসিল হবে না। এ ব্যাপারে পুলিশসহ সাধারণ মানুষ সজাগ রয়েছে। তবে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য এলাকা ভিত্তিক পাহারার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন বলেন, বিষয়টি একেবারে গুজব বলে উড়িয়ে দেয়া যাবে না। আমাদের কাছে এ উপজেলায় বিভিন্ন মাধ্যমে ডাকাতি হতে পারে বলে খবর পাচ্ছি। তাই মানুষকে সতর্ক করার জন্য এলাকা ভিত্তিক মাইকিং, পাহারার কথা বলা হচ্ছে। হাট বাজার মহল্লায় সিসি ক্যামেরার কথা বলা হচ্ছে। যাতে কোন প্রকার দুর্ঘটনা না ঘটে।

Model Hospital

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের চরমাছুয়া এলাকায় ডাকাত ডুকেছে। এ মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ একে অপরের ফোনে খবর আসে। সাথে সাথে উপজেলার একটি পৌরসভাসহ চৌদ্দটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সবাইকে সতর্ক করতে শুরু হয় মাইকিং। মাইকিং শব্দ পেয়ে মানুষ ঘুম থেকে উঠে ভোর রাত পর্যন্ত ঘুম রাত মানুষের। এতে বিশেষ আতঙ্কে পড়ে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। তারা রাত জেগে পাহারা দেয় গ্রামের অলিগলিতে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।