শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৬:৪৪ পিএম
আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার সক্ষমতা রাখে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘১ ফেব্রুয়ারি ছয়টি আসনে উপ-নির্বাচন হয়েছে। এ নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেননি। এ উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার সক্ষমতা রাখে।’

৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে সংসদ নেতা এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকেই বলেন যে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। এখানে নাকি অনির্বাচিত সরকার আনতে হবে। আমার প্রশ্ন, এই যে ছয়টি উপ-নির্বাচন হলো, এই নির্বাচন সম্পর্কে কেউ তো একটি কথাও বলতে পারেননি। বাংলাদেশের একজন মানুষও কি এ নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পেরেছেন? তবে কিছু লোক আছে, তাদের সবসময় উল্টো কথা বলতেই হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচন যে স্বচ্ছ হয়েছে, অবাধ নিরপেক্ষ হয়েছে, এটা কি প্রমাণ করে না যে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার সক্ষমতা রাখে? সেখানে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি, করেও না, করবেও না।’

Model Hospital

সরকারপ্রধান বলেন, ‘জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই তো আমাদের আন্দোলন। জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি। সেই সংগ্রামের সাফল্য বয়ে এনে আজকে ভাতের অধিকার যেমন আমরা নিশ্চিত করেছি, ভোটের অধিকারও আমরা নিশ্চিত করেছি। এটিই বাস্তব।’

যারা অনির্বাচিত সরকার আনতে চায়, তারা দেশের সংবিধানে বিশ্বাস করে কি না, প্রশ্ন তুলে সংসদ নেতা বলেন, ‘কিছু লোক বলে যাচ্ছে যে, দুই-তিন বছর অনির্বাচিত সরকার থাকলে ক্ষতিটা কী? এতে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে? এটি কোন ধরনের কথা। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার আসবো, যার জন্য আমাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, জেল-জুলুম অত্যাচার পর্যন্ত সহ্য করা। সেই গণতন্ত্র যখন ফিরিয়ে এনেছি, অব্যাহতভাবে গণতন্ত্র আছে বলেই আজ দেশের উন্নতিটা মানুষের কাছে দৃশ্যমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেই দেশের দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে। এর ফলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের মাঝে স্বস্তি ও শান্তি ফিরে এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ধারাবাহিকভাবে তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে আজকে ২০ শতাংশে নেমে এসে।’

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করে করোনা মহামারি মোকাবিলা করেছি আমরা। করোনা মোকাবিলায় উপমহাদেশে বাংলাদেশ প্রথম ও বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেওয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।’

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।