শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায়

চাঁদপুরে যাতে কোন প্রকার যানজট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে : জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

সজীব খান প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৩, ৩:৫৯ পিএম
চাঁদপুরে যাতে কোন প্রকার যানজট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে : জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, চাঁদপুর শহড় যানজটে নাকাল, দিন দিন চাঁদপুরে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। যানজট নিরশনে পুলিশ বিভাগ কাজ করছে, আসন্ন রমজান ঈদ উপলক্ষে চাঁদপুরে বিভিন্ন স্থান থেকে লোক আসবে, নৌ পথ, সড়ক পথে চাঁদপুরে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকবে, চাঁদপুরে বহুমুখী চাপ থাকার কারনেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। লঞ্চ, ট্রেন ও বাসে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী না আসতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঈদে চাঁদপুরে যাতে কোন প্রকার যানজট না হয় সেদিকে সকলইে খেয়াল রাখতে হবে। যানজট নিরশনে কাজ করতে হবে, ঈদে নিবিঘ্নে বাজার করে মানুষ যাতে বাড়ি ফিরতে পারে, সেজন্য পুলিশ প্রশাসন কাজ করতে হবে, সব স্থানে আইনের শাসন বুদ্ধিমান থাকলে দেশের উন্নয়ন দ্রুত হবে।

তিনি বলেন গ্রামীন অবকাঠামো জন্য টিআর কাবিখার কাজগুলো যাতে সঠিক ভাবে হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে, কোন বিষয়ে অনিয়ম হয়ে থাকলে খতিয়ে দেখা হবে, হাজিগঞ্জে সরকারি চাল আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, সে বিষয়টি ভাল ভাবে ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। চাঁদপুরে কিশোরগং প্রতিরোধে সবাকেই সচেতন হতে হবে। আইনের সুশাসন সব স্থানেই বৃদ্ধমান রাখতে হবে। যারা কিশোরগংয়ের নের্তত্বদেয় তাদেরকে চিহৃত কওে আইনের আওত্তায় নিয়ে আসতে পারলে দ্রুত কিশোরগং নিরশন সম্ভাব হবে।

Model Hospital

সভায় বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ (বিপিএম বার), নৌ পুলিশ সুপার কামরুজ্জাম, সিভিল সার্জন ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম মুসার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা মুক্তিযুদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার যুদ্ধ্হত মুক্তিযুদ্ধা এম এ ওয়াদুদ, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাই থোয়াইহলা চৌধুরী, সদর ইউএনও সানজিদা শাহনাজ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এ এইচ এম আহসান উল্ল্যাহ, জেলা, সড়কের সার্ভেয়ার মারুফ হোসেন প্রমুখ।

সভায় নৌ পুলিশ, আনসার ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, সড়ক বিভাগ, বিটাক, মৎস্য বিভাগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’