শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে ভিটামাটিহীন পরিবারকে গৃহ ও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে উপকরণ প্রদান

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৩, ৩:১৮ পিএম
মতলব উত্তরে ভিটামাটিহীন পরিবারকে গৃহ ও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে উপকরণ প্রদান

মতলব উত্তর উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ভিটামাটিহীন দুইটি পরিবারকে গৃহ প্রদান করা হয়েছে।

রবিবার (১৬ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল।

এসময় উপজেলার ফৈলাকান্দি গ্রামের ভিটামাটিহীন রাজিয়া বেগম ও ভেদুরিয়া বাজার মুক্তিপল্লীর খতেজা বেগমের হাতে ঘরে চাবি হস্তান্তর করেন সাংসদ নুরুল আমিন রুহুল ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

পরে “উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায়, দেশ গড়বো সমাজসেবায়” সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়িত ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে ভিক্ষুকদের মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়।

Model Hospital

চান্দ্রাকান্দি গ্রামের মো. নুর আলমকে গবাদিপশু, কৃষ্ণপুরের বিল্লাল হোসেনকে গবাদিপশু, চরমাছুয়া গ্রামের জেসমিন আক্তারকে গবাদিপশু, কলাকান্দার বিলকিস বেগমকে ব্যবসার জন্য শাড়ি কাপড়, নিশ্চিন্তপুরের কুলছুম বেগমকে গবাদিপশু, বৈদ্যনাথপুরের মেরাজ কাজীকে গবাদিপশু, মুল্লুক মাজির কান্দির আলী হোসেনকে গবাদিপশু, রামদাসপুরের মাহফুজা বেগমকে ব্যবসার জন্য দোকানের মালামাল, ডুবগীর বাড়ু প্রধানকে দোকানের মালামাল, গোয়াল ভাওর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনকে গবাদিপশু ও এখলাছপুরের আরফতের নেছাকে গবাদিপশু সহ মোট ১১ জন ভিক্ষুককে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে উপকরণ দেওয়া হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল এমরান খানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. আনিছুর রহমান তপুর উপস্থাপনায় আরো বক্তব্য রাখেন, মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) মো. ছানোয়ার, চাঁদপুর জেলা পরিষদের সদস্য সরকার মো. আলাউদ্দিন, ফরাজীকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম প্রমুখ।

সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয় থেকে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত্য দুটি পরিবারকে দুটি গৃহ প্রদান, ভিক্ষাবন্ধে সহায়ক ৮টি পরিবারকে ১টি করে গরু, ৩টি পরিবারকে ব্যবসার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রণালয় থেকে দুটি অসহায় দুঃস্থ্য ও অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ডেউটিন বিতরন করা হয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’