বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে মসজিদের ইমামসহ ৫ হাফেজকে পিটিয়ে আহত, বসতবাড়ি ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৩, ৪:৩০ পিএম
চাঁদপুরে মসজিদের ইমামসহ ৫ হাফেজকে পিটিয়ে আহত, বসতবাড়ি ভাংচুর
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নে মসজিদের ইমামসহ ৫ জন কুরআনের হাফেজকে পিটিয়ে রক্তাক্ত আহত করা হয়েছে। হামলা করে ভাংচুর করা হয়েছে তাদের বসতবাড়ি। হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি পরিবারের নারী সদস্যরাও।
এমন অমানবিক ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডস্থ ব্রাহ্মণ শাখুয়া গ্রামের ভুইয়া বাড়িতে। আহতরা হলেন, ওই এলাকার আবদুর ছাত্তার ভুইয়ার পুত্র হাফেজ মাসুদুর রহমান (৩৭), হাফেজ নাসির হোসেন (৩২), হাফেজ শরীফুল ইসলাম (২৭), হাফেজ মাহবুবুর রহমান (২০), নাতি হাফেজ মাওলানা মোস্তাকিম বিল্লাহ (২০), স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৬০) ও পুত্রবধূ নুরজাহান বেগম।
আহতরা ট্রিপল লাইনে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁদপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকাজুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আহত হাফেজ শরীফুল ইসলাম জানান, আমাদের বাড়িতে এক দাগে সর্বমোট ৪৩ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি সাড়ে ২১শতক। যা প্রায় ৬০/৭০ বছর ধরে দলিলমূলে আমার পিতা এবং আমরা ভোগদখল করে আসছি। আমাদের পাশ্ববর্তী শফিক ঢালীর সাথে গত কয়েক বছর ধরে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। অবশেষে গত ২৭ এপ্রিল চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের উদ্যোগে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সালিশীদের মাধ্যমে ২দিন ধরে সম্পত্তি মাপযোগ করে আমাদের ৩ পরিবারকে সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এতে উভয় পরিবারের মাঝে দীর্ঘ দিনের দ্বন্দ্বের সমাধান হয়।
এদিকে ওই রাতে তৃতীয় পক্ষের কেউ আমাদের মধ্যে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিতে পশ্চিম পাশের দু’টি সীমানা প্রাচীর উঠিয়ে অন্য জায়গায় পুতে দেয়। এ নিয়ে পাশ্ববর্তী মজিদ গাজীর পরিবার আমাদের সাথে জগড়া শুরু করে। এক পর্যায়ে মজিদ গাজীর পুত্র রশীদ গাজী, মাসুদ গাজী, শহীদ গাজী, আল আমিন গাজী, আমির গাজীর পুত্র মজিদ গাজী এবং স্থানীয় ইউছুফ গাজী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমাদের উপর আতর্কিত হামলা করে। তারা আমার ভাই, ভাতিজা এবং মা-ভাবিকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।
তিনি আরো জানান, আমাদের এলাকায় কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোক রয়েছেন। তারা একজনের সাথে আরেক জনের ঝগড়া বাঁধিয়ে ফয়দা লুটে। এলাকার মানুষ ভয়ে তাদের নামও প্রকাশ করতে পারে না। তাদেরই একজন স্থানীয় মৃত জব্বর ভূঁইয়ার ছেলে ইউছুফ ভূঁইয়া। এই ইউছুফ ভূঁইয়ারাই আমাদের মধ্যে ঝগড়া লাগিয়েছে।
আহত মসজিদের ইমাম মাসুদুর রহমান বলেন, আমার ৬ ভাইয়ের মধ্যে ৫ ভাই কুরআনের হাফেজ। আমরা মসজিদের ইমামতিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থেকে শান্তিপূর্ণভাবে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। আমরা কখনোই ঝগড়াবিবাদ চাই না। অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমাকে বাঁচাতে আমার স্ত্রী বোরকা পরে এগিয়ে এসেছিলো। তারা আমার স্ত্রীর চুল ধরে মেরেছে। আমার মাকেও মেরেছে। আমরা অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবী করছি।
অভিযুক্ত ইউসুফ গাজীর কাছে এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি নয় বলে জানান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর মডেল থানার এসআই কবির হোসেন বলেন, বাগাদী ইউনিয়নে হাফেজ পরিবারের উপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য গিয়েছি। এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।