শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

৪ বছর ধরে হেলে পড়া বসতঘরে কৃষকের বসবাস !

বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ মে, ২০২৩, ৭:০৬ পিএম
৪ বছর ধরে হেলে পড়া বসতঘরে কৃষকের বসবাস !
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক কৃষকের বসতঘর গত চার বছর ধরে হেলে পড়ে আছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ বসতঘরের ভিতরে স্ত্রী ও ছোট ছোট চার সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন কৃষক মোশাররফ হোসেন। কৃষক মোশাররফ হোসেনের হেলে পড়া ঘরের দিকে কেউ খবর রাখেনি। অথচ গত কয়েক বছর ধরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সরকার এ উপজেলায় শত শত নতুন ঘর তৈরি করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়,  উপজেলার ২ নং বাকিলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড রাধাঁসার মেহের আলী হাজী বাড়ীর মৃত হেলাল উদ্দিন মুন্সীর ছেলে কৃষক মোশাররফ হোসেনের বসতঘরটি ঝুঁকিপূর্ণ। চারদিকে টিনের বেড়া, তিনটি দরজা থাকলেও নেই কোন জানালা। বসতঘরের পূর্ব পাশে একটি গাছের সাথে ঝুলে পড়ে আছে।  ঘরের সামনের অংশ সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ায় পুরো হেলে যায়। তাৎক্ষণিক বাস রশি দিয়ে কোনরকম ঘরের লড়ার সাথে ঠেক দিয়ে রাখা হয়। বিকল্প কোন ছোট ঘর না থাকায় এ ঝুঁকিপূর্ণ বসত ঘরে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছে কৃষক মোশাররফ হোসেন।
স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, ছোট ছোট চার সন্তান নিয়ে ভাংগা বসতঘরে পড়ে আছি। সামান্য বৃষ্টি ও ঝড় বাতাস আসলে আমরা ভয়ে ঘরের এক কোণে পড়ে থাকি। আমার স্বামী যখন যা পায় তা দিয়ে আমাদের কোনরকম সংসার চলে।  ঘর করার মত কোন টাকা নাই। তাই সরকার কিংবা বৃত্তবানদের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
কৃষক মোশাররফ হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান মেম্বার কখনো দেখতে আসেনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করতে হয়। সামনে বর্ষামৌসুমের আগে যদি ঘরটি সংস্কার করা না হয় তাহলে আমরা যে কোন সময় প্রাণ হারাতে হবে। তাই জনপ্রতিনিধি ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ অবহিত করেনি, তবে সরেজমিনে গিয়ে ইউএনও স্যারকে অবহিত করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ভূমিহীন না হলে স্থানীয় চেয়ারম্যান এর মাধ্যমে ঘর সংস্কারে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’